Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গহিরায় খোঁড়া হচ্ছে সাকার কবর

নভেম্বর ২২, ২০১৫
চট্রগ্রাম
No Comment

photo-1443715492মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যুদ্ধাপরাধী সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর মরদেহ দাফনের জন্য রাউজানের গহিরায় তার পারিবারিক নতুন কবরস্থানে কবর খোঁড়া শুরু হয়েছে।

শনিবার (২১ নভেম্বর) দিনগত রাত ৩ টা ১০মিনিটে  ওই কবরস্থানে সাকার ছোটভাই সাইফুদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবরের পাশে কবর খোঁড়া শুরু হয়।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সাকার বাড়ির কেয়ারটেকার মো. কামালের নেতৃত্বে আটজনের একটি দল কবর খোঁড়া শুরু করে।

সাকার বংশধর মো. শাহীন নামে জানান, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর চাচাতো ভাই কবরস্থানে তার ভাইয়ের কবরের পাশের জায়গাটি দেখিয়ে দেন। এরপরই কবর খোঁড়া শুরু হয়।

‘কবরস্থানে আমাদের বংশের মুরুব্বিরা উপস্থিত আছেন,’ বলেন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উত্তর) মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এরই মধ্যে মরদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা দেওয়া হয়েছে। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর পরিবারের সদস্যরাও রওনা হয়েছেন। আশা করছি ভোরের মধ্যে মরদেহ রাউজানে পৌঁছাবে।’

এর আগে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ১২টা ৫৫ মিনিটে সাকা চৌধুরীর দণ্ড কার্যকর করা হয়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর কারাগার থেকে বেরিয়ে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পুরান ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হয়ে গাড়ি বহরটি মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার দিয়ে যাত্রাবাড়ী, কাঁচপুর ব্রিজ হয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও, কুমিল্লার চান্দিনা, বিশ্বরোড, চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর পর মিরসরাই হয়ে চট্টগ্রামে যাবে। এরপর যাবে রাউজানের গহিরায়।

এদিকে যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে রাউজ‍ানে ৠাব, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। টহল দিচ্ছে বিজিবিও।

সাকার মরদেহ রাউজানের প্রবেশ ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন,  ‘সাকার ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় আমরা খুবই সন্তুষ্ট। আমরা তার লাশ রাউজানে আনতে দেবো না। রাউজান কলঙ্কমুক্ত হয়েছে, এখানে তার লাশ দাফন করে রাউজানকে কলঙ্ক করতে দেবো না।’

তিনি জানান, সাকার মরদেহ যাতে রাউজানে আসতে করতে না পারে সেজন্য প্রবেশ পথ হালদা নদীর সর্তারঘাটে অবস্থান নেবেন তারা।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির দণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৯ অক্টোবর আপিল করেন সাকা। তবে সর্বোচ্চ সাজার প্রেক্ষিতে আপিল করেননি রাষ্ট্রপক্ষ। গত ১৮ নভেম্বর সেই আবেদন খারিজ করে ফাঁসির দণ্ড বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

শনিবার রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চান সাকা। কিন্তু ক্ষমা পাননি তিনি। যদিও কারাগারে তার সঙ্গে দেখা করে ছেলে হুম্মাম বলেছেন, তার বাবা প্রাণভিক্ষা চাননি।