Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

গফরগাঁওয়ে খালি মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে আ’লীগ !

ডিসেম্বর ২৯, ২০১৫
নির্বাচন, ময়মনসিংহ, রাজনীতি
No Comment

paoro_dhakareport_36662[1]
কামরুজ্জামান, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
গফরগাঁও পৌর নির্বাচনে বিএনপি নামেমাত্র প্রার্থী দেওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন সাধারণ ভোটাররা। বর্তমান সরকারের দুঃশাসণ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের অত্যাচার নির্যাতনে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ ধানের শীর্ষের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে ছিল। কিন্তু বিএনপি প্রার্থী দিলেও তারা নির্বাচনী মাঠে না থাকায় সাধারণ ভোটাররা হতাশ হয়েছেন। সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে থাকুন খালেদা জিয়ার এই নির্দেশ সত্বেও নাক ঢেকে ঘুমাচ্ছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
বিএনপির অনুপস্থিতিতে খালি মাঠে গোল দিতে যাচ্ছে আওয়ামীলীগ। নির্বাচনের শুরু থেকেই আওয়ামীলীগ প্রচার প্রচারাণায়ও ছিল শীর্ষে। নৌকা প্রতীকের পোস্টারে পুরো নির্বাচনী এলাকা ছেয়ে গেছে। অপরদিকে প্রার্থী দিলেও শুরু থেকেই মাঠে নেই বিএনপি। ধানের শীষের প্রতীকের কোন পোস্টারও এলাকায় নজরে পড়ার মত নয়। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নিজেও নির্বাচনী মাঠে নেই। প্রথম থেকেই অবস্থা দৃষ্টি সাধারণ ভোটাররা ধরে নিয়েছেন বিএনপি অঘোষিতভাবে নির্বাচনী মাঠ ছেড়ে দিয়েছে। আর এমনটি হয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শাহ আব্দুল­াহ আল মামুৃনের কারণেই। তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন তাকে দেখলে এমনটি মনে হয় না। সাধারণ ভোটারদের মতই তাকে চায়ের স্টল, দোকানপাট, স্থানীয় শিবগঞ্জ রোডে তার বাড়ির পাশের কাঠের দোকান, লাকরির দোকানে আড্ডা দিয়ে গল্প গোজব করতে দেখা যায়। ভোটারদের কাছে তাকে ভোট চাইতেও দেখা যায়নি।
৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পৌর নির্বাচন। অথচ একদিন আগেও আজ মঙ্গলবার দুপুরে তাকে নিজ বাড়ির পাশে রেল গেটে একটি বেঞ্চে বসে রেলের গেটম্যান খলিল ও স্বর্ণাকার বিজয় বণিকের সাথে সাধারণ মানুষের মত গল্প গোজব করে সময় কাটাতে দেখা গেছে। তার পক্ষে দলের কোন নেতা-কর্মীকেও ভোট চাইতে দেখা যায়নি। এমনকি মূল দল বা কোন অঙ্গ সংঠন তো দূরের কথা প্রার্থীর নিজের আত্মীয় স্বজনের ভেতরও গা ছাড়া ভাব লক্ষ্য করা গেছে। অথচ পাশের পৌরসভা ভালুকা, ত্রিশাল ও নান্দাইলে বিএনপি প্রার্থীদের প্রচারণায় নির্বাচনী মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সেসব পৌরসভায় বিএনপি প্রার্থীদের বিজয় সুনিশ্চিত বলে সাধারণ ভোটাররা অভিমত দিয়েছেন। অথচ গফরগাাঁও উপজেলা ও পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবকদল, শ্রমিকদলসহ কোন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা গতকাল নির্বানের আগের দিন পর্যন্তও নির্বাচনী মাঠে ছিলেন না। এব্যাপারে সাধারণ কর্মীরেদরকে সিনিয়র ও দায়িত্বশীল নেতাদের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখ গেছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি এ.বি সিদ্দিকুর রহমান নির্বাচন উপলক্ষে একদিনও এলাকায় আসেননি বলে দলীয় নেতা কর্মীরা অভিযোগ করেন। দলীয় কোন কোন্দল না থাকা সত্বেও নির্বাচনী যুদ্ধে গফরগাঁও বিএনপির অংশ গ্রহণ না করাটাকে কাপুরোষিত বলে মনে করছেন সাধারণ ভোটাররাও। তাদের মতে বিএনপি সামান্য ঝুঁকি নিলেই অতি সহজেই বিজয়ী হতে পারতো। এভাবে খালি মাঠে আওয়ামীলীগকে ছেড়ে দেওয়াটা কোন মতেই উচিত হয়নি বলেও সাধারণ ভোটারদেরকে মন্তব্য করতে শুনা গেছে।
এব্যাপারে স্থানীয় ছাত্রদল নেতা জাহিদ হাসান কর্নেল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা নির্বাচনী মাঠে নামার জন্য সর্ব্ত্মাক প্রস্তুত ছিলাম। কিন্তু গফরগাঁও বিএনপির অভিভাবক এ.বি সিদ্দিকুর রহমানসহ দায়িত্বশীল কোন নেতাই নির্বাচনী মাঠে নামার ব্যাপারে আমাদেরকে কোন নির্দেশনা দেননি। এ.বি সিদ্দিকুর রহমান বিগত ২০১১ সালের পর এ পর্যন্ত দুটি জানাযায় অংশ নিতে ঢাকা থেকে মাত্র দুই বার গফরগাঁও এসেছিলেন। এছাড়া তাকে আর কখনো এলাকায় দেখা যায়নি। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পাইথল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মো: ইসহাক মামলা ও পুলিশী হয়রাণীর ভয়ে এলাকা ছাড়া। তাকে গত দুই বছর যাবত এলাকায় দেখা যায়নি। তিনি বর্তমানে গাজীপুরে আত্মগোপনে আছেন। উপজেলা যুবদলের সদস্য মিজানুর রহমান পল্টনসহ অনেককে প্রকাশ্য দেখা না মিললেও তারা পর্দার আড়াল থেকে নৌকার পক্ষে কাজ করছেন বলে সাধারণ কর্মীরা অভিযোগ করেন।