Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮

গণধর্ষণের দায়ে ৫ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দিয়েছে গাজীপুর আদালত

?

?

?

?

মঞ্জুর হোসেন মিলন: : হাইকোর্টের নির্দেশে গাজীপুরে স্থানান্তরিত টাঙ্গাইলের মধুপুরে আলোচিত গণধর্ষণ মামলায় আজ বৃহস্পতিবার গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ জাহেদ মনসুর ৫ আসামীকে যাবজ্জীবন সাজার রায় দিয়েছেন। এলাকায় প্রভাবশালী আসামীদের বিরুদ্ধে ভয়ে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা পরিচালনা করতে না পেরে উচ্চ আদালতের মাধ্যমে গাজীপুরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল মামলাটি। রায় ঘোষণার সময় ধর্ষকদের সহযোহী এক নারী সহ ৫ আসামী আদালতে উপস্থিত ছিল।
মামলার বিবরনে জানা যায়, ২০১২ সালের ৬ ডিসেম্বর আসামী বীথি মামাত বোনের বিয়েতে ভিকটিম বান্ধবীকে নিয়ে যায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিমকে আসামী বীথি সহযোগী আসামী নুরুজ্জামান, হারুন অর রশিদ, শাহজাহান ও মনিরুজ্জামানের হাতে তুলে দেয় এবং এস এম নুরুজ্জামান গেদার বাড়িতে আটকে রেখে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। তিনদিন পর অসুস্থ্য ভিকটিমকে ধষণে সহায়তাকারী আসামী বীথি বাড়ির কাছে রেখে পালিয়ে যায়। ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশ করলে ছুরি দিয়ে হত্যা করবে বলে ভয় দেখায়। এতে ভিকটিম আতঙ্কিত হয়ে ঘটনাটি লোকানোর চেষ্টা করে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে ভিকটিম বেশী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেয় এবং ভিকটিমের ভাই টাঙ্গাইলের মধুপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। ডাক্তারি পরীক্ষা ও ভিকটিমের স্বীকারোক্তিতে মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: মজিবুর রহমান সহায়তাকারী বীথি সহ পাঁচ ধর্ষকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ভিকটিমকে মধুপুরের বোকারবাইদ গ্রামে আসামী এস এম নুরুজ্জামানের বাড়িতে অন্যান্য সহযোগী আসামীদের সহায়তায় রাখার বিষয়টি বাড়ির গৃহকর্তৃ আসামী এস এম নুরুজ্জামানের স্ত্রী চায়না বেগম টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক এর কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন বলে আইনজীবি জানিয়েছেন। মামলায় ১৮জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহন ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আলোচিত মামলাটির রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন আজ ১৭ নভেম্বর বৃহস্পতিবার। যুক্তিতর্কের শুরুর দিন থেকেই নারী আসামী বীথি ছাড়া অন্য ৪ আসামী জেল হাজতে আটক ছিলেন। গাজীপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দ জাহেদ মনসুর ৫ আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় এবং প্রত্যেক আসামীকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন আদালত।
ভিকটিমের পক্ষকে মামলায় আইনী সহায়তাকারী বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্যানেল আইনজীবি আসাদুল্লাহ বাদল গাজীপুর দর্পণকে জানান, ভিকটিমকে আসামীরা বিয়ের অনুষ্ঠানের কথা বলে পূর্বপরিকল্পনা মতে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। আদালত স্বাক্ষী ও যুক্তিতর্ক শেষে আজ ১৭ নভেম্বর রায় ঘোষণা করে। রাষ্ট্র পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতের স্পেশাল পিপি ফজলুল কাদের। আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল।