Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ১৮ অক্টোবর ২০১৮

‘খুনীদের আইনের আওতায় আনার বদলে লেখকদের সংযত হতে বলছে সরকার’

নভেম্বর ১১, ২০১৫
জাতীয়, বিশেষ প্রতিবেদন
No Comment

akbar2খুনীদের আইনের আওতায় আনার বদলে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহল থেকে লেখকদের সংযত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে খুনীদের চেয়েও বেশি অপরাধ লেখালেখি করা।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ৩৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এ মন্তব্য করেন।

বিজ্ঞানমনস্ক লেখক, ব্লগার ও প্রকাশক খুনীদের বিচারের আওতায় আনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিও জানান তারা।

বিবৃতি প্রদানকারীরা হলেন : আহমদ রফিক, প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কামাল লোহানী, অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক যতীন সরকার, ড. অজয় রায়, হাসান আজিজুল হক, শুভ রহমান, নিখিল সেন, সৈয়দ হাসান ইমাম, অধ্যাপক ড. শফিউদ্দিন আহমেদ, শাহরিয়ার কবির, রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, বেগম মুশতারী শফি, ড. অনুপম সেন, অধ্যাপক মাহফুজা খানম, সেলিনা হোসেন, অধ্যাপক কাজী মদিনা, ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, অধ্যাপক এম এম আকাশ, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, আবুল মোমেন, মানবেন্দ্র বটব্যাল, অধ্যাপক আবুল বারাক আলভী, আবেদ খান, মশিউদ্দিন শাকের, লায়লা হাসান, অধ্যাপক বদিউর রহমান, অধ্যাপক আশরাফুজ্জামান সেলিম, অধ্যাপক এ এন রাশেদা, সুজেয় শ্যাম, প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ শীশ, মোনায়েম সরকার, কবি এ কে শেরাম, কবি গোলাম কিবরিয়া পিনু ও সাইদুর রহমান বয়াতি।

বিবৃতিতে তারা বলেন, বর্তমান সময়ে সংগঠিত প্রকাশক ও লেখকদের হত্যা দেশজুড়ে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। মুক্তবুদ্ধির জাগরণকে রুদ্ধ করতে সাম্প্রদায়িক জঙ্গিগোষ্ঠী একের পর এক এ ধরনের হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে পাঁচজন লেখককে নৃশংসভাবে হত্যা করা হলেও সরকার এখনো পর্যন্ত একটি হত্যাকাণ্ডেরও বিচার করতে পারেনি। অপরাধীদের খুঁজে বের করে বিচার না করার ফলে হত্যাকারীরা উৎসাহিত হচ্ছে। যে সকল অপরাধীকে ধরা হয়েছে তারাও জামিনে ছাড়া পেয়ে আবারো তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এরূপ উদাসীনতা মুক্তবুদ্ধির মানুষদের হতাশ করেছে। সেই সাথে জনগণের নিরাপত্তার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। জনমনে হতাশা ও আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, দেশকে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল ধারায় এগিয়ে নিতে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তার দায়িত্ব রাষ্ট্রের উপরই বর্তায়। আমরা এ অবস্থাকে কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না। সরকার ও তার গোয়েন্দা সংস্থার ব্যর্থতার দায়ভার জনগণ মেনে নিতে পারে না। তাই সরকারের প্রতি দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে প্রতিটি লেখক-প্রকাশকদের হত্যার সাথে জড়িত দোষীদের দ্রুত খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় এনে জনমনে স্বস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশিষ্টজনরা মনে করেন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা সংবিধান স্বীকৃত ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের কালাকানুন থাকতে পারে না। তাই অবিলম্বে ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।