Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৪ নভেম্বর ২০১৮

খানসামায় করলা চাষে নীরব বিপ্লব

1470894271323[1]

ফারুব আহম্মেদ খানসামা (দিনাজপুর) প্রকিনিধি :
করলা চাষের সফলতায় কমপক্ষে ১০ হাজার পরিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। এ করলা চাষে নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছেন খানসামার কয়েকটি গ্রামের কৃষক। গ্রামের যেদিকে তাকানো যায় সবুজ ও হলুদের সমারোহ। সবুজ আর হলুদের সমারোহে ভরে উঠেছে খানসামা উপজেলার পূর্ব হাশিমপুর, পশ্চিম হাশিমপুর, আঙ্গারপাড়া, ডাঙ্গাপাড়া, পূর্ব ডাঙ্গাপাড়া, খামারপাড়া, হোসেনপুর, তেবাড়িয়া, গোবিন্দপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রাম। আর এসব গ্রামের সবুজ আর হলুদের সমারোহে দেখা যাচ্ছে করলা চাষ। খানসামা এলাকার এসব করলা ক্ষেতে রানীপুকুরি জাতের বীজ বপন করা হয়েছে। প্রতিদিন এসব গ্রাম থেকে শত শত মণ করলা রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, বগুড়া, রংপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, রাজশাহী, নোয়াখালীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছে। করলাকে কেন্দ্র করে খানসামার পাকেরহাট, বুড়িরবাজার, তেবাড়িয়া, বাহাদুরবাজার, মরিয়মবাজারে প্রতিদিন বিশাল পাইকারী বাজার বসে। বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা এসে এখান থেকে করলা ক্রয় করেন। বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ভরা মৌসুমে এখান থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫-২০টি ট্রাক, ১০-১৫টি পিকআপ এবং ৮-১০টি ভটভটি করলা ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নিয়ে যায়। করলা চাষে সফল পূর্ব ডাঙ্গাপাড়া শফিকুল ইসলাস (৫৩) জানান, প্রায় ২০ বছর আগে করলার চাষ শুরু করি। চাষে লাভবান হওয়ায় অনেক চাষিই এগিয়ে আসে করলা চাষে। অনেকে এ করলা চাষেই হয়েছেন স্বাবলম্বী। আমি এ বছর প্রায় সোয়া তিন বিঘা জমিতে করলার চাষ করেছি। এতে খরচ হবে অন্তত ৬০ হাজার টাকা এবং দুই-আড়াই লাখ টাকার করলা বিক্রি হবে। আঙ্গারপাড়া গ্রামের রাশেদুল হক (৫২) জানান, আমি ১০-১২ বছর ধরে করলার চাষ করে আসছি। এ বছর আড়াই বিঘা জমিতে করলার চাষ করেছি। এ পর্যন্ত ছয়বার করলা তুলেছি। করলা বিক্রি করে ২ লাখ ৬৯ হাজার টাকা পেয়েছি। আরও দুইবার করলা তুলব বলে আশা করছি। এতে আরও অন্তত ৫০ হাজার টাকা পাব। এতে আমার অন্তত লক্ষাধিক টাকা খরচ হয়েছে। হবিবর রহমান ওরফে হবি জানান, জমির মাটি পলিযুক্ত হওয়ায় করলার চাষ বাড়তে থাকে। অনেক পরিবার করলা চাষেই পরিবারের সফলতা ফিরে পেয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১০-১৪ মে. টন করলা উৎপাদিত হয়। চলতি বছর করলা ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের উৎপাত একেবারে কম, বৃষ্টিপাতও কম। তাই কীটনাশক খরচও কম। নিজের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন তা বিক্রিও করছি। এতে নগদ টাকাও হাতে আসে। বেশি ফলনের পাশাপাশি ব্যয়ও অপেক্ষাকৃত কম। এ দিয়ে বেশ ভালোভাবেই সংসার চলে যাচ্ছে