Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮

কোটলীপাড়ায় খ্রীষ্টান ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা চরমে: ১৪৪ ধারা জারী

অগাষ্ট ২৬, ২০১৫
আইন- আদালত, গোপালগঞ্জ
No Comment

গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়ায় একটি রাস্তা নির্মানকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের  মানুষদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে উঠেছে। উপজেলার পূর্ব রামশীল এলাকায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ রয়েছে। সেখানে চার্চ প্রধান এবং ৪ জন প্রিন্ট ও অনলাইন সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা হয়েছে সম্প্রতি।
বুধবার সকালে কোটালীপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং দৈনিক খবরপত্রের কোটালীপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি  মিজানুর রহমান বুলু জানিয়েছেন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্তৃক রামশীল বাজার থেকে আগৈলঝরার বাত্রা পর্যন্ত রাস্তা নির্মানের প্রয়োজনে জোর পূর্বক কোটালীপাড়ার পূর্ব রামশীল এলাকার একটি ব্যাপ্টিষ্ট চার্চের জায়গা দখল করার চেষ্টা করলে সেখানে প্রথমে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংবাদ সংগ্রহের প্রয়োজনে শনিবার দৈনিক খবরপত্রের প্রতিনিধি হিসাবে তিনি নিজে এবং সহযোগী দৈনিক যুগান্তরের কোটালীপাড়া উপজেলা প্রতিনিধি এইচএম মেহেদি হাসান,দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি রতন সেন কংকন এবং দৈনিক ইত্তেফাক প্রতিনিধি গৌরাঙ্গ লাল দাস পূর্ব রামশীল এলাকায় গেলে সেখানে তাদের ওপর স্থানীয় কিছু হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক হামলা করে এবং ক্যামেরা ভাংচুর করে। হামলাকারিদের মধ্যে তমাল বাড়ৈই,অরুন মল্লিক, অ্যাপলো তালুকদার, মনু মল্লিক, পুলিন জয়ধরকে সনাক্ত করা গেছে। তারা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী। ঐ একই সময় পূর্ব রামশীল এলাকার সংশ্লিষ্ট ব্যাপ্টিষ্ট চার্চের পুরোহিত দীপক রায়, জাতীয় চার্চ পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও  গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর আঞ্চলিক ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ  সংঘের সভাপতি ডেভিড অধিকারীর ওপরেও হামলা করা হয়।
কোটালীপাড়া থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গেছে সাংবাদিক ও সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের চার্চ প্রধানদের ওপর হামলা সহ লাঞ্চিত করার ঘটনার পর দ্রুত পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে  দাঙ্গাবস্থার সৃষ্টি হলে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ  মিকাইল  ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতীফ সহ  প্রশাসনের অন্যান্য  পর্যায়ের কর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন  রামশীলে ১৪৪ ধারা জারি করতে বাধ্য হয়। তবে ঐ হামলার সাথে জড়িতদের কাউকে পুলিশ আটক করে নাই। সাংবাদিক ও খ্রিষ্টান চার্চ প্রধানদের পক্ষ থেকে পৃথকভাবে লিখিত  অভিযোগ দায়ের করলেও পুলিশ তা এজাহার ভুক্ত না করে আপোষের প্রস্তাব দেয় প্রধানমন্ত্রীর গোপালগঞ্জ সফর শেষ হবার পরে। প্রধানমন্ত্রী ও কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার নির্বাচিত সংসদ সদস্য শেখ হাসিনা ২৮/২৯ আগষ্ট শনিবার টুঙ্গিপাড়া সফর করবেন এবং সেখানে তার রাত্রী যাপন করার কথা রয়েছে এমন অজুহাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপারটি আলোচনা সাপেক্ষে নিষ্পত্তির প্রস্তাব আহত ও লাঞ্চিত সাংবাদিক বা সংখ্যালঘু খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের চার্চ প্রধানরা মেনে নিতে পারে নাই। উভয় পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের তাগিদ দিলেও তা কার্যকর করে নাই প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে জেলা তথ্য অফিসার  মো: আমীরুল আজিম জানান প্রধানমন্ত্রীর  টুঙ্গিপাড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে ঢাকা থেকে।
বুধবার সকালে জাতীয় চার্চ পরিষদের কোষাধ্যক্ষ ও  গোপালগঞ্জ-মাদারীপুর আঞ্চলিক ব্যাপ্টিষ্ট চার্চ  সংঘের সভাপতি ডেভিড অধিকারী জানিয়েছেন  তাদের ওপর যে হামলা হয়েছে তা ন্যাক্কারজনক। চার্চের জায়গা জোর করে দখল করা অনুচিত। চার্চ কর্তৃপক্ষ রাস্তা নিমার্নের বিপক্ষে নয়। রাস্তার জন্য জমি ছাড় দিতে তারা প্রস্তুত। কিন্তু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি ঘুরিয়ে নিলে চার্চের যে অংশে পুকুর রয়েছে তা বাঁচানো সম্ভব। ঐ পুকুরটি পবিত্র এবং সেখানে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষা গ্রহনকারীদের ব্যাপটাইজড্ করা হয়। কোন অবস্থাতেই ঐ পবিত্র পুকুরটি বেদখল হতে দেয়া সম্ভব নয়। সেজন্য প্রতিবাদ করতে গিয়ে হামলার শিকার এবং লাঞ্চিত হতে হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করায় তারা হতাশ। ঠিকাদার নারায়ন দাম  নিজে সরকার দলীয় নেতা বলে জানা গেছে। তার মদদে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। সে জন্যই পুলিশ অপরাধীদের গ্রেফতার করছে না।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল লতীফ জানিয়েছেন যে সাংবাদিক এবং চার্চ কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া উভয় পক্ষ সমঝোতার ব্যাপারে একমত হয়েছে। শুক্রবার বৈঠক করে আপোষ করার কথা রয়েছে। আপোষ না হওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বলবৎ থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর সফর স্থগিত হওয়ায় আপোষের চেষ্টা দ্রুত চলছে।
কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিকাইলকে বারবার চেষ্টা করে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায় নাই। রাস্তা নির্মান সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের মালিক নারায়ন দামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকেও পাওয়া যায় নাই।
পূর্ব রামশীলে শান্তি স্থাপন করা না গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাবে না বলে বুধবার জানিয়েছেন রামশীল ইউপি চেয়ারম্যান খোকন বালা। তিনি আরো বলেন এ যাবৎ নিজে  ঘটনাস্থলে না গেলেও ১ নং ওয়ার্ড সদস্য চিরঞ্জিত হালদার সেখানে গিয়েছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে সাম্ভাব্য সকল কিছু করা হচ্ছে। ঠিকাদার নারায়ন দাম উপজেলা স্বেচ্ছা সেবকলীগের আহবায়ক বলেও তিনি স্বীকার করেন। ১৪৪ ধারা জারী সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।