Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কালের আবর্তে হারিয়েই গেল গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহি হুক্কা

Capture
মোঃ শহিদুল ইসলাম : এক সময়ের জনপ্রিয় লক্ষ লক্ষ মানুষের ধুূমপানের মাধ্যম হুক্কা খাওয়া প্রচলন কালের আবর্তনে দিনদিন হারিয়ে যাচ্ছে। আজ থেকে তিন/চার দশক আগেও আবাহমান বাংলার গ্রাম-গরীব ধূমপায়ীরা হুক্কার মাধ্যমে তামাকপানের নেশায় অভ্যস্থ ছিল । উর্তি বয়সের যুবক থেকে শুরু করে বয়স্ক, বিত্তবান, ধনী ও দরিদ্র অনেকের বাড়িতেই হুক্কার প্রচলন ছিল।
গ্রামের বৈঠক খানা গুলোতে পালাক্রমে হুক্কা টানতো বিভিন্ন বয়সের পুর“ষরা।বিত্তবানদের বাড়িতে ছিল নলের হুক্কা। চেয়ারে গাঁ এলিয়ে আয়েশী ভঙ্গিতে গৃহকর্তা নলের পাইপ মুখে দিয়ে যখন জমিদারী ভঙ্গিমায় টান দিত তখন এ দৃশ্য পানে চেয়ে থাকতো বৈঠক খানায় আগত মানুষরা । তামাক পাতা টুকরো টুকরো করে কেটে এনে এতে চিটাগুড় মিশ্রিত করে তৈয়রী হত হুক্কার প্রধান উপাদান তামুক। আর এতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে নিঃসরিত ধূয়া হুক্কার তলনীর পানিতে ডুবিয়ে ,,কুড়ুত কুড়ুত,,শব্দ বের হয়ে আসতো। এক প্রকার ঘ্রান বের হতো তা থেকে। প্রতিবন্ধকতার কারণে এ দৃশ্য দেখা সম্ভব না হলেও দুর থেকে বোঝা যেত আশে পাশে কেউ হুক্কা টানছে। এখন বর্তমান সময়ে আর সেই চিরাচরিত সেই দৃশ্যটি খুব একটা দেখা যায়না বললেই চলে ।
কালের আবর্তে হারিয়ে গাছে সেই ঐতিহ্যের অনেকটায়। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই খাওয়াতো দূরের কথা চোখেই দেখেনি হুক্কা। হুক্কার জায়গা দখল করে নিয়েছে বিড়ি,সিগারেট, হুস্কি, হেরোইন, গাজাঁসহ অনান্য মাদকদ্রব্য । যার মধ্যে ক্ষতিকর নিকটিন রয়েছে। তার পরেও এই মরন নেশায় নতুন করে জড়িয়ে পরেছে উর্তি বয়সের লক্ষ লক্ষ যুবক সমাজ। যাদের নিয়ে দেশের সকল অবিভাবক মহল থাকেন সব সময় উদ্বিগ্ন।
উপজেলার হরিশপুর গ্রামের শ্রী কাঞ্চি রাম পাল বলেন, হুক্কা টানলে দুটি উপকার একটি অর্থ নৈতিক সাশ্রয় কারনে ১০ টাকার তামাক কিনলে ১৫/২০দিন হুক্কা টানা যায়। দ্বিতীয়ত হুক্কা টানার দ্বারা কাশি হয়না। যার জন্য আমি বিড়ি, সিগারেট ছেড়ে এখনো হুক্কা পান করি।