Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

কালীগঞ্জে মাদকের কারণে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি


গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : কালীগঞ্জ উপজেলায় মাদকের কারণে আইন-শৃঙ্খলা চরম অবনতিতে পৌছেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জন-প্রতিনিধিরা।

রোববার দুপুরে উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ অভিযোগ করে স্থানীয় জন-প্রতিনিধিরা উদ্বেগ ও উৎকন্ঠা প্রকাশ করেন।

এ সময় তারা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের উপরও চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।

উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে বক্তব্য রাখেন-কমিটির উপদেষ্ঠা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পলাশ, ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক, গাজী সরোয়ার, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, শরীফুল ইসলাম সরকার তোরণ, আবু বকর মিয়া বাক্কু, মাহবুবুর রহমান ফারুক মাষ্টার। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রণতি বিশ্বাস, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শর্মিলী দাস মিলি, কালীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. তরিকুল ইসলাম প্রমুখ।

মোক্তারপুর ইউপি চেয়ারম্যান শরীফুল ইসলাম সরকার তোরণ বলেন, মাদক সংক্রান্ত ব্যাপারে যদি কোন আসামী ধরা হয়। তাহলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার মানে কি? আর তাকে যদি ছেড়েই দেওয়া তবে তাহলে ধরারই বা দরকার কি? আমরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি আর পুলিশের কারণে তা নষ্ট হবে এটা তো ঠিক না।

তুমিলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর মিয়া বাক্কু বলেন- সম্প্রতি তার ইউনিয়নের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু ওই ব্যবসায়ীর সাথে এজাহারে এলাকার এক নিরিহ মানুষের নাম দেওয়া হয় এবং টাকা দিলে এজাহার থেকে কেটে দিবে বলেও জানা যায়।

বাহাদুরসাদী ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন- তার ইউনিয়নে নানা মাদক দ্রব্যে ছেয়ে গেছে। তাই ওই ইউনিয়নকে মাদকমুক্ত করার চেষ্ঠা করে যাচ্ছেন তিনি। এজন্য স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় আহতও হয়েছেন তিনি। কিন্তু মাদকসহ থানা পুলিশকে ধরিয়ে দিলেও তাদের সহায়তা দিয়ে মাদক মামলা না দিয়ে অন্য মামলায় চালান দেওয়া হয়।

জামালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ফারুক মাষ্টার বলেন- গত রোজার ঈদের আগের দিন রাতে গাঁজা ও ইয়াবাসহ তিনজনকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন। কিন্তু পরের দিন তাদের হাজতের বাহিরে দেখে বিস্মিত হন তিনি। পরে জানতে পারেন টাকার বিনিময়ে তারা ছাড়া পায়। এ অবস্থায় একজন জন-প্রতিনিধি হয়ে এলাকার সাধারণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয় আমাদের উন্নয়ন প্রচেষ্টা।

এছাড়াও বক্তারা বলেন, থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীদের দিয়ে সোর্সের কাজ করায়। আর এতে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ওই সোর্সদের মাদক ব্যবসা ও অপরাধে বাধা দিলে সুযোগ মত বিভিন্ন মামলায় ফাসিয়ে হয়রানী করা হয়।

সভায় উপস্থিত কালীগঞ্জ থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে কিছুদিন হয় থানায় এসেছি। বিগত দিনে কি ঘটেছে তা আমার জানা নেই। মাদকের ব্যাপারে কোন আপোষ করা হয়না এবং হবে না বলেও জানান তিনি।