Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাপাসিয়া-শ্রীপুর সড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক বিভাগের উদ্যোগ

ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৮
কাপাসিয়া, শীর্ষ সংবাদ
No Comment


মঞ্জুর হোসেন মিলন : গাজীপুরের কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের দস্যূ নারায়নপুরে ভূমি ধসে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক বিভাগ তাৎক্ষণিক উদ্যোগ নিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সড়ক ও জনপথ প্রকৌশল অধিদপ্তরের উর্ধ্বতণ প্রকৌশলীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে এই উদ্যোগ নেন।

সোমবার ভোর রাতে কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের দস্যূ নারায়নপুর বাজারের পূর্বপাশে শীতলক্ষ্যা নদীর দক্ষিণ তীরে সড়ক ও সড়কের পাশের কলাবাগানসহ প্রায় দুই হাজার বর্গফুট জমি সমতল থেকে প্রায় ১০ ফুট গভীরে দেবে যায়। এরপর কাপাসিয়া ও শ্রীপুরের সড়ক যোগাগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে।
মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দস্যূ নারায়নপুর গ্রামের বাসিন্দা সাতানব্বই বছরের বৃদ্ধ ফটিক চন্দ্র দাস এর সাথে কথা বলে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে এজায়গায় প্রথম ভূমি ধসের ঘটনা ঘটে। ২০০৩ সালের ফেব্রæয়ারি মাসে এবং ২০১৫ সালে একই স্থানে অনুরূপভাবে ভূমি দেবে গিয়েছিল। ভূমি ধস ঠেকাতে এই জায়গায় স্থায়ি ব্যবস্থার দাবী জানান তিনি।
স্থানীয় লোকজন জানায়, সোমবার ভোর রাতে আকস্মিকভাবে কাপাসিয়া-শ্রীপুর আঞ্চলিক সড়কের দস্যূ নারায়নপুর বাজারের পূর্বপাশে শীতলক্ষ্যা নদীর দক্ষিণ তীরে দেবে যাওয়ার খবর পেয়ে খবর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কািমটির সভাপতি সিমিন হোসেন রিমি এমপি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে সড়কটি মেরামতের নির্দেশ দেন।

শ্রীপুর-গোসিঙ্গা-কাপাসিয়া-হাতিরদিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের উন্নয়ন কাজের দায়িত্বে থাকা সড়ক ও জনপথ প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলীরা রাস্তা ধসের স্থানে যান। অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আ: সবুর, ঢাকা সার্কেলের তত্ত¡াবধায়ক প্রকৌশলী মো: সবুজ উদ্দিন খান ও গাজীপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি এ কে এম নাহিন রেজা সহ সংশ্লিষ্টরা। নির্বাহী প্রকৌশলী ডি এ কে এম নাহিন রেজা জানান, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি। সয়েল টেস্ট করে স্থায়ী ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানিয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী মহল বহু বছর ধরে এই এলাকার শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি বর্তমানে বালু উত্তোলনের বৈধতা না থাকলেও রাতের বেলা ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে গুটি কয়েকজন প্রভাবশালী এ এলাকার সকল মানুষকে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সোমবার সড়ক ও সড়কের পাশের কলাবাগানসহ বিশাল এলাকার জমি সমতল থেকে প্রায় ১০ ফুট গভীরে দেবে গেছে। এ সময় সেখানে এক ধরনের মৃদু শব্দ শুনতে পেয়ে তারা ছুটে যায় এবং অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়ে মাটি নিচের দিকে দেবে যেতে থাকে। ১৬ ফুট প্রস্থের সড়কসহ দেবে যাওয়া জমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৭০০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ৩০০ ফুট। দেবে যাওয়া অংশে পাকা সড়ক, কলা বাগান ও অন্যান্য সবজি বাগান ও নদীর তীরে নানা গাছ রয়েছে। দেবে যাওয়া অংশের দক্ষিণ পাশে কয়েকটি বসত বাড়ী রয়েছে।