Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কাপাসিয়ায় মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

 

মোঃ আঃ কাইয়ুম : গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সালদৈ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম,দুর্নীতি,স্বেচ্ছাচারিতা ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাদরাসার গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি মোঃ মোকলেছ মোল্লা জানান, সম্প্রতি অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ তাজুল ইসলাম অত্র প্রতিষ্ঠানে ১ জন সহকারি শিক্ষক ,১জন সহঃ লাইব্রেরিয়ান ও ১ জন ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারি নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে মারাতœক অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। গভর্নিং বডির সদস্যদের না জানিয়ে এবং তাদের স্বাক্ষর জাল করে এ সংক্রান্ত যাবতীয় কর্মকান্ড তিনি একাই সম্পাদন করেছেন। তাছাড়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরকার (এন টি আর সি এ এর মাধ্যমে ) শিক্ষক নিয়োগ দানের প্রজ্ঞাপন জারির পর পূর্ববর্তী তারিখ দেখিয়ে ভুয়া প্রত্রিকা প্রকাশ করে তিনি তাদের কাছ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং এমপিও ভুক্তি বাবদ ২০ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়েছেন।
শিক্ষক নিয়োগে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে তিনি গত জানুয়ারী মাসে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি অধ্যক্ষ মাওঃ মোঃ তাজুল ইসলাম ও তৎকালীন মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের যোগসাজসে ওই ৩ জনের নিয়োগে ২০ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধের আবেদন জানিয়ে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে কোন শাস্তি মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। তাছাড়া গত কয়েক বছর পূর্বে অধ্যক্ষ সাহেব পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক সহ ৫ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ১২ লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়েছিলেন। যাদের মধ্যে ২ জন জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদধারি রয়েছেন। তিনি আরো বলেন, অধ্যক্ষ সাহেব নিজেই ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দিয়ে চাকরি নিয়েছেন। তিনি নরসিংদীর জামেয়া কাসেমিয়া কামিল (গাবতলী) মাদরাসায় এবতেদায়ি প্রধান পদে চাকরি করলেও অভিজ্ঞতা দেখিয়েছেন প্রভাষক পদের। অধ্যক্ষ কারো কাছে উপবৃত্তির টিউশন ফির টাকার কোন হিসেব দেন না। গত দাখিল ও আলিম পরীক্ষার ফরম পূরণে তিনি একক সিদ্ধান্তে সরকার নির্ধারিত টাকার চেয়ে প্রায় ২ হাজার টাকা প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে অতিরিক্ত আদায় করেছেন ।
তিনি আরো জানান,অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগসহ নানা বিষয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে গত বুধবার বিকালে ম্যানেজিং কমিটির একটি সভা আহবান করা হয়। সভায় অধ্যক্ষ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে পরিকল্পিত ভাবে বহিরাগত সন্ত্রাসী লোক এনে সভায় বিশৃংখলা সৃষ্টি করে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতি বিষয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার গত ১১ এপ্রিল অভিযোগ তদন্তে অধ্যক্ষ বরাবরে একটি চিঠি প্রদান করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রকিব হাসান জানান, তদন্ত সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যরা সময় চাওয়ায় ওই তারিখে তদন্তকাজ সম্পন্ন হয় নাই।এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ তাজুল ইসলাম জানান, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি আইন অনুযায়ী সকল কিছু করেছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য,অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রমাণিত হওয়ায় ২০০৯ সালে তিনি একটি লিখিত অঙ্গিকার নামা প্রদান করেন। এতে তিনি নৈতিকভাবে আতœশুদ্ধির পাশাপাশি মাদরাসার সার্বিক উন্নয়নে তার নামের প্রতিমাসের সরকারি ভাতা থেকে ১০ হাজার টাকার অতিরিক্ত টাকা মাদরাসায় জমা প্রদান করবেন বলে অঙ্গিকারবদ্ধ হন। তিনি আরো উল্লেখ করেন মাদরাসা পরিচালনায় নিয়ম শৃংখলা পরিপন্থি ও নৈতিকতা বিরোধী কোন কাজে ভবিষ্যতে জড়িত হবেন না।