Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

কাপাসিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের অভিযোগ

Gazipur News -30-07-2013 Clash OLYMPUS DIGITAL CAMERA

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট ঃ গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরে ভাঙ্গন, ফকির মজনু শাহ সেতু ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া, আগামী বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভাঙ্গনে কাপাসিয়া ও শ্রীপুরের প্রায় অর্ধ লক্ষাধিক নিরীহ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কোন উদ্যোগই কাজে আসছে না। প্রভাবশালীরা জড়িত থাকায় বরাবরই পাড় পেয়ে যান বালু ব্যবসায়ীরা।
গাজীপুর জেলার রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর কামরুজ্জামান জানান, গাজীপুরের কাপাসিয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর ৫টি মৌজা যথাঃ ইসলামপুর (৭ দশমিক ১৪ একর) টোকনগর (৩৪ দশমিক ৪০একর) উলুসারা দুটি মৌজা (৬৮দশমিক ১২ একর) ও সিংহশ্রী (১১৪ একর) চলতি বাংলা সনের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে। ইজারার শর্ত অনুয়ায়ী নদীর অনুমোদিত নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ১ঃ৩ ঢাল সংর¶ণ করে বলগ্রেড দিয়ে বালু উত্তোলন করার কথা। কিন্তু উক্ত শর্ত ভংগ করে প্রভাবশালী মহলের ছত্র ছায়ায় উক্ত ইজারাকৃত মৌজার বাইরে অ-ইজারাকৃত এবং অননুমোদিত মৌজা/দাগ থেকে সরাসরি ড্রেজার দিয়ে বালু ব্যবসায়ীরা অবাধে, নির্বিঘেœ, অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। ফলে একদিকে সরকার বিপুল রাজ¯^ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অপরদিকে পরিবেশের মারাত্বক ক্ষতি হচ্ছে। ঢাল সংর¶ণ না করে বালি উত্তোলনের ফলে নদীর বিভিন্ন স্থানে তীর ভেঙ্গে পড়ছে। তাছাড়া, ঢাকা-কাপাসিয়া-টোক-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের কাপাসিয়া সদরে শীতলক্ষ্যা নদীর উপর নির্মিত ফকির মজুন শাহ সেতু রয়েছে। সেতুর উভয় পাশে ৪ শ মিটারের মধ্যে সর্ব প্রকার ড্রেজিং নিষিদ্ধ। প্রায় ৬/৭ বছর আগে দস্যু নারায়াণপুর বাজারের পাশে একটি রাস্তাসহ সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুট জমি দেবে যায়। মাটি দেবে যাওয়ার কারণে এবং সেতুর নিপারত্তার কথা ভেবে জেলা প্রশাসন সেতুর দুপাশে নদীর কোন মৌজায় বালু মহাল ইজারা দেয়নি। জেলা প্রশাসন আশপাশের এলাকায় নদী থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করে। গাজীপুর জেলা প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকাগুলো বাদ দিয়ে শীতলক্ষ্যার নদীর সীমিত কয়েকটি এলাকার বালু মহাল ইজারা দেয়। কিন্তু সীমিত এলাকা ইজারা নিয়ে শীতলক্ষ্যায় আগ্রাসী হয়ে ওঠে বালু ব্যবসায়ীরা।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, কাপাসিয়ার দক্ষিণে ধান্দিয়া থেকে উত্তরে কুড়িয়াদি পর্যন্ত শীতলক্ষ্যায় অননুমোদিত এলাকা থেকে বালু লুটের উৎসব চলছে। স্থানে স্থানে ড্রেজার দিয়ে নির্বিঘেœ বালু উত্তোলন করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় সরকারী দলের ৫/৬ জন সরাসরি ড্রেজার দিয়ে অবাধে, অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করছে। বালু উত্তোলনের কারণে তরগাঁও ইউনিয়নের বাঘিয়া এলাকা এখন চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড় ভেঙে গ্রামের অনেক নিরীহ মানুষে জায়গা-জমি ধ্বসে পড়েছে। নিরীহ কৃষক কবির হোসেন জানান, পাড় ভেঙে তাঁর কয়েক শতাংশ জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া পরিবহন ব্যবসায়ী কল্লোল, সরকারি চাকরিজীবী মেজবাহ উদ্দিন রাজু, তপু, মাসুদ, শাহীন, লতিফ ও রিয়াজ উদ্দিনসহ আরো অনেক গ্রামবাসীর ফসলি জমি নদীতে মিশে গেছে। ভয়াবহ ভাঙনের আশঙ্কায় গ্রামবাসী বিভিন্ন সময় কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেছেন।

কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন আলী বলেন, ‘অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর পেলে আমি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করি। ইতিপূবে ড্রেজার ও ট্রলার জব্দ করা হয়েছে। কেউ ইজারা বিহীন এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করলে অবশ্যই যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’