Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কমিটির দলাদলিতে হাটহাজারীর পশ্চিম দেওয়ান নগর প্রা.বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

জানুয়ারি, ১২, ২০১৪
চট্রগ্রাম, শিক্ষা
No Comment

মোঃ আলমগীর হোসেন, চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান ঃ হাটহাজারী পৌরসভার পশ্চিম দেওয়াননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দলাদলির কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে এলাকায় দুইটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় গ্রুপ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পরষ্পর বিরোধী অভিযোগ দিয়েছে বলেও জানা গেছে। তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন শীঘ্রই সমস্যার সমাধান হবে।
জানা গেছে,হাটহাজারী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডে অবস্থিত পশ্চিম দেওয়াননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৩৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। অনেক গুনীজন সৃষ্টি করেছে এ বিদ্যালয়টি। কিন্তু উপজেলা সদরে অবস্থিত হওয়া সত্তে¡ও গত কয়েক বছরে বিদ্যালিয়টির শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। তাছাড়া সারা দেশের মত উপজেলার অন্য বিদ্যালয় গুলোতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও এ বিদ্যালয়ের ফলাফল চলছে তার বিপরীতে। তাছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়নও হয়নি অনেক বছর। এর মূল কারন হিসেবে অনেকে ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দলাদলি এবং কমিটির কার্যকমকে দায়ি করছেন এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহল। গত বছরের ১৩ মার্চ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ আবদুল হামিদ  বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি গঠনকল্পে একটি পত্র প্রেরন করে। এরপর থেকে দলাদলি আরো তীব্র আকার ধারন করে। দলাদলি কারনে বর্তমান কমিটির মেয়াদ গত বছরের ২২ ডিসেম্ভর শেষ হলেও এখনো নতুন কমিটি গঠন সম্ভব হয়নি। তাছাড়া অভিভাবক প্রতিনিধির জন্য আবেদনপত্র আহভান করেও ঝুলে রয়েছে বিষয়টি।
বিদ্যালয়ের নন্দন কুমার মজুমদার সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ে মোট ১১ জন শিক্ষক রয়েছে। শিক্ষকদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ছাড়া সব মহিলা শিক্ষক। যা গ্রামের অন্য বিদ্যালয় গুলো হতে অনেক বেশী। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় পাঁচ শতাধিক।
তিনি আরো বলেন,২০০৯,১০,১১ সালে পিএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যালয়ের ফলাফল শতভাগ হলেও বৃত্তি পায়নি একজনও। তবে ২০১১ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ জন। ২০১২ সালে ফলাফল কমে গিয়ে হয় ৯৬% হলেও জিপিএ-৫ পায় ২ জন ও বৃত্তি পায় ১ জন। সর্বশেষ ১০১৩ সালে ফলাফল আবার বেড়ে গিয়ে শতভাগ হলেও জিপি-৫ নেই একজনও।
ফলাফল নিয়ে এলাকাবাসী ও অভিভাবক মহলে বেশ ক্ষোভের সৃষ্ঠি হয়েছে। অনেকে তাদের সন্তানদেরকে এ বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে ওর্য়াড আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো.হোসেন বলেন,বিদ্যালয়টি অনেক গুনির জম্ম দিলেও দিন দিন বিদ্যালয়টি তার আপন উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলছে। এ জন্য তিনি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের দায়ী করেন।
আরেকজন এলাকাবাসী জাতীয় পার্টির নেতা মহিবুল হক বলেন,বিদ্যালয়টি উন্নয়নে হাটহাজারীর সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ অনেক অবদান রেখেছেন। তার মাধ্যমে আমরা একটি ভবন পেয়েছি। তাছাড়া সংষ্কারের জন্যও পেয়েছে উপযুক্ত বরাদ্দ। কিন্তু বর্তমান কমিটি তা কাজে লাগাতে পারিনি। ফলে বিদ্যালয়টির এ অবস্থা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল হামিদ বলেন,শীঘ্রই বিদ্যালয়ে কমিটি নিয়ে সমস্যা সমাধান করা হবে।
সকল দলাদলি ভুলে গিয়ে ও নতুন ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি করে পুনরায় ভাল ফলাফল করার উপর গুরুত্বাপোর করেছেন শিক্ষা পর্যবেক্ষক মহল।