Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত

3

মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক, ময়মনসিংহ থেকে : বঙ্গবন্ধু  শেখ  মুজিবুর  রহমান-এর  ৪০তম  শাহাদাৎ  বার্ষিকী  ও  জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে  শনিবার সকালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে নবনির্মিত জাতির  জনক  বঙ্গবন্ধু  শেখ  মুজিবুর  রহমান-এর  প্রতিকৃিততে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের  উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। পরে ট্রেজারার প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমান, অনুষদীয় ডিন, বিভাগীয় প্রধান, হলের প্রভোস্টগণ, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা পরিষদসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।

এরপর গাহি সাম্যের গান মঞ্চে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রফেসর ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেন। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তৃতায় বলেন,‘ বঙ্গবন্ধু ছিলেন প্রকৃত রাজনৈতিক। তাঁর রাজনীরি মূল মন্ত্র ছিল জনগণ এবং জনগণের প্রতি ভালোবাসা। তিনি সবসময় শোষকদের পক্ষে রাজনীতি করেছেন। তাঁর কাছে দুর্নীতিবাজদের কোন স্থান ছিল না। দুর্নীতির কারণে তিনি অনেক নেতা-কর্মীকে একসাথে দল থেকে বহিস্কার করেছেন।” তিনি আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সম্পদের সুষম বন্টন করতে চেয়েছিলেন। তিনি সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে বিদেশি সাহায্যের প্রয়োজন ছিল কিন্তু তিনি কোন শর্ত সাপেক্ষে বিদেশি সাহায্য গ্রহণ করেননি। এছাড়া বঙ্গবন্ধু শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বাংলা চালু করেছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছিলেন এবং কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন।” প্রধান অতিথি উপাচার্য মহোদয়কে অনুরোধ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক একটি কর্ণার খোলার যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বই থাকবে।

আলোচনা সভায় সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই প্রধান অতিথির অনুরোধ রক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ‘মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু’ শীর্ষক একটি কর্ণার খোলার  ঘোষণা দেন এবং বক্তব্যের মুহূর্তেই তার উদ্বোধন ঘোষণা করেন। যত দ্রুত সম্ভব এই কর্ণারটি ব্যবস্থা করে সমৃদ্ধ করা হবে যেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত বই থাকবে।’ তিনি বলেন, ‘ অনেকে বলেন বঙ্গবন্ধু জনগণের প্রতি অধিক আত্মবিশ্বাসের কারণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করায় তাঁকে হত্যা করা সম্ভব হয়েছে আমি মনে করি তিনি ক্যান্টনমেন্টের ভিতরে থাকলেও তারা তাঁকে হত্যা করতে পারতেন। কারণ অনেক আগেই একটা গ্রুপ তৈরি হয়ে গিয়েছিল যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার নির্দিষ্ট টার্গেট করেছিল। তারা চেয়েছিল বাংলাদেশ থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে ফেলতে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে ফেলতে কেউ কখনও পারেনি এবং পারবেও না।’ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কথা বলতে গিয়ে সভাপতি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কখনও জীবনের মায়া করেননি তাঁর প্রকৃত সেনানিরাও তেমন জীবনের মায়া করেনা। বঙ্গবন্ধু সবসময় অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু দলের চেয়ে রাষ্ট্রের ভালো-মন্দ চিন্তা করতেন। বঙ্গন্ধু চেয়েছিলেন মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে আর এজন্য তিনি সর্বপ্রথম অর্থনীতিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমান।  তিনি বলেন, ‘যারা ছাত্রদল বা বিএনপি করে তারা আসলে প্রকৃত ইতিহাস জানে না।’ তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ আর বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু।’ আলোচনা সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সুব্রত কুমার দে, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. মাহবুব হোসেন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোল্লা আমিনুল ইসলাম, কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি মো: আব্দুল হালিম, প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আপেল মাহমুদ এবং বঙ্গবন্ধু কর্মচারী সমিতির সভাপতি মসিউজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও জাতীয় শোক দিবস উদ্যাপন কমিটি-২০১৫ এর আহবায়ক প্রফেসর ড. মো: নজরুল ইসলাম। আলোচকবৃন্দ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহ্ফিল অনুষ্ঠিত হয়। মিলাদ ও দোয়া মাহ্ফিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুক্তভোজ অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তা পরিষদের উদ্যোগে ত্রিশালের ‘আল জামিয়াতুল সালাফিয়া মাদ্রাস’য় আলাদাভাবে খাবারের আয়োজন করা হয়।