Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কক্সবাজরের পেকুয়ায় দেশের একমাত্র সাবমেরিন নৌ-ঘাঁটি হচ্ছে

মোহাম্মদ আলী,পেকুয়া(কক্সবাজার)প্রতিনিধি ঃ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামায় হচ্ছে দেশের একমাত্র সাব-মেরিন নৌ ঘাঁটি। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত সাব-মেরিন নৌ ঘাঁটি বাস্তবায়নের জন্য সাম্ভব্যতা যাচাই করে এর  নকশা চুড়ান্ত পর্যায়ে। নতুন করে বিখ্যাত পরিচিতি লাভ করতে যাচ্ছে সমুদ্র উপক‚লবর্তী ইউনিয়ন মগনামা। উম্মেচিত হচ্ছে সম্ভবনার নতুন দ্বার। সাব-মেরিন(ডুবো যুদ্ধজাহাজ) কুতুবদিয়া চ্যানেলের অদুরবর্তী মগনামায় পূর্নাঙ্গ ঘাঁটি স্থাপনের জন্য প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ নৌ বাহিনী। এ জন্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে ৪০০ একরেরও কিছু বেশি জমি বরাদ্ধ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ নৌ বাহিনীকে আধুনিক ও তাদের সক্ষমতা বাড়াতে ১০ বছর ব্যাপী একটি পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বর্তমান সরকার সাব-মেরিন নৌ ঘাঁটি স্থাপনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ধারনা করা হচ্ছে ২০১৬ সালের মধ্যে বাংলাদেশ নৌ বাহিনীর বহরে সাব-মেরিন যুদ্ধ জাহাজ যুক্ত হচ্ছে। এর সাম্ভব্য ব্যায় ধরা হয়েছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। সূত্রটি আরো জানিয়েছে সাব-মেরিন উপযোগী কর্মকর্তা তৈরী করতে সময়ের প্রয়োজন হয়। ওই কারনে এখন থেকেই শুরু হচ্ছে ট্রেনিং।
নৌ বাহিনীর চৌকস কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে পারদর্শী হতে পাঠানো হয়েছে ইউরোপ মহাদেশের একটি নৌ ঘাঁটিতে। সম্প্রতি দেশীয় তৈরী যুদ্ধ জাহাজ পদ্মার উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাব-মেরিন সংযোজন এর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান। বাংলাদেশে সাব-মেরিন আনা হলে নৌ বাহিনী আধুনিক বাহিনীতে পরিনত হবে।
বাংলাদেশ ¯^সস্ত্র বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, খুব দ্রƒত বাংলাদেশ সরকার এশিয়া মহাদেশের চীন থেকে সাব-মেরিন কিনতে যাচ্ছে। সাব-মেরিন হচ্ছে বিশেষ ধরনের ডুবো যুদ্ধা জাহাজ যা পানির তল দেশে এবং উপরিভাগে সমানতালে চলতে স¶ম। বাংলাদেশ বিশ্বের উদীয়মান দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে দ্রƒত প্রসার হচ্ছে এ বাংলাদেশ। সাব-মেরিন যুদ্ধ জাহাজ খুব কম দেশে রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য,জার্মানী,ফ্রান্স,এশিয়ার দেশ গনচীন ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও নেই। সামরিক বিভাগের নির্ভরশীল সূত্র জানিয়েছে সাব-মেরিন কেনার জন্য চীন, বাংলাদেশ এ দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে দু’টি সাব-মেরিন যুদ্ধ জাহাজ কেনার জন্য ক্রয় সংক্রান্ত প্রাথমিক প্রস্তাব চুড়ান্ত হয়েছে। সাব-মেরিন ঘাঁটি বিষয়ে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত ২০১২ সালের শুরূতে সামরিক ভ‚মি সেনা নিবাস অধিদপ্তর থেকে প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে চিঠি দিয়ে কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার মগনামার ৪১৯ দশমিক ৮৫ একর জমি অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়। এরপর কক্সবাজার জেলা প্রশাসনকে মতামত জানাতে বলেন।
গত বছরের সেপ্টা¤^রে উপজেলা প্রশাসনের মতামতের পর জেলা প্রশাসন প্রস্তাবিত জমিতে অধিগ্রহনের পক্ষে রয়েছে বলে জানান। প্রসÍাবিত জমির মধ্যে খাস জমি, উপক‚লীয় বন বিভাগের, পানি উন্নয়ন র্বোড(পাউবো)বিপুল সম্পত্তি ছাড়াও বেশি জমি ব্যাক্তি মালিকানাধীন। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে খাস, বনবিভাগের, ও পাউবোর এসব জমি প্রভাবশালীদের অবৈধ দখলে রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাক্তি মালিকানাধীন সম্পক্তিগুলি সম্প্রতি বহু মালিকানা পরিবর্তন হয়ে চট্টগ্রামের এস আলম ও টিক্কা গ্রƒফ নামে দু’টি ব্যাক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্টান স্থানীয় ভ‚মি মালিকদের কাছ থেকে প্রস্তাবিত নৌ ঘাঁিটর ওই স্থানসহ আশপাশের প্রায় ৮ শত কানি জমি খরিদ করেছে। মগনামায় নৌ ঘাঁটি হলে জমি হারাবে এস আলম গ্রƒফ। এর বিরুপ প্রভাব পড়বেনা বিশাল জনগোষ্টির উপর।
সম্প্রতি দেশের একমাত্র নৌ ঘাঁটি হচ্ছে মগনামায় এ খবরে মগনামাসহ পুরো উপক‚লের জনগন উচ্চাসিত হয়েছে। এর ইতিবাচক সম্ভবনাময় এই সংবাদে সর্বত্রে এলাকার মানুষ খুশি হয়েছে।
মগনামা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল মোস্তফা চৌধুরী বলেন,
মগনামায় নৌ ঘাঁটি করা হলে কিছু মানুষ উচ্ছেদ হবে। তবে দেশের এ বৃহত্তম নৌ ঘাঁটি আমার ইউনিয়নে হলে উন্নয়ন হবে এলাকা। উজানটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, মগনামা এবং উজানটিয়ার দু’ সীমানায় স্থাপিত হবে এ ঘাঁটি। সেটি আমাদের গৌরবের বিষয়। এখানে ঘাঁটি হলে সাগরে জেলেদের নিরাপত্তা জোরদার হবে। আর্ন্তজাতিক পরিষরে আমাদের সফলতা ছড়িয়ে যাবে। পেকুয়ার ইউ এন ও মীর শওকত আলী বলেন, নৌ ঘাঁটি স্থাপনের জন্য সম্ভব্যতা যাচাই করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগের অনুরোধে স্থান ট্রেসিং করে চুড়ান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। জমি অধিগ্রহনের প্রজ্ঞাপন আসলে তা হবে।