Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

ঐক্য ফ্রন্টের সাত দফা নির্বাচন বানচালের মতলবে সাতটি চক্রান্ত– ওবায়দুল কাদের

গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেছেন, ঐক্য ফ্রন্টের সাত দফা হচ্ছে আগামী নির্বাচন বানচালের মতলবে সাতটি চক্রান্ত। তিনি বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে। আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে পরাজিত করার মতো কোন শক্তি বাংলাদেশে নেই।
বুধবার দুপুরে মহানগরের টঙ্গী সরকারি কলেজ মাঠে আওয়ামী লীগ ঘোষিত কর্মসূচি উপলক্ষে গণসংযোগ ও পথসভার প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ সব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ১/১১-এর কুশীলবরা, বাংলাদেশের পরিচিত-পরীক্ষিত চক্রান্তকারীরা আজকে হাত মিলিয়েছে ২১ আগষ্টের খুনীদের সঙ্গে, ১৫ আগষ্টের খুনীদের সঙ্গে, এরা হাত মিলিয়েছে আন্তজার্তিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে। এদের সাত দফা হচ্ছে আগামী নির্বাচন বানচালের মতলবে সাতটি চক্রান্ত। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এই ঐক্য বাংলাদেশের মানুষ মেনে নিয়েছে? এদের নেতা কে ? তিনি বলেন, এদের নেতা মঞ্চে আছে কামাল হোসেন, আর পেছনে আছে আসল নেতা, নেপথ্যের নেতা- তারেক রহমান। ২১ আগষ্ট মামলায় দÐপ্রাপ্ত, মানি লন্ডারিংয়ে দÐপ্রাপ্ত, দুর্নীতিবাজ, পলাতক নেতা তারেক রহমান।
তিনি বলেন, মইনুলকে ঐক্যফ্রন্টের নেতা হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়নি, তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অপরাধী হিসেবে। তার মুক্তির জন্য বিএনপি দাবি করে। যে মইনুল হোসেন মাইনাস-টু ফরমুলার সঙ্গে ছিলো। বেগম জিয়াও তার মাইনাস-টু’র টার্গেট ছিল। সেই মইনুল হোসেনের সঙ্গে বিএনপি আতাত করেছে নির্বাচনে জয়ের জন্য নয়, ষড়যন্ত্র করে শেখ হাসিনা সরকারকে হটানোর জন্য। তাদের টার্গেট হচ্ছে শেখ হাসিনা। তাকে ক্ষমতা থেকে হটাতে হবে। এটাই হচ্ছে আজকে বিএনপির টার্গেট।
মন্ত্রী বলেন, আজকে আমার অবাক লাগে- বাংলাদেশের প্রথম সংবিধান প্রণেতা বলে যিনি দাবি করেন, যিনি গণতন্ত্রের নামে মায়া কান্না করেন, যিনি নীতি-নৈতিকতার কথা বলেন, যিনি নষ্ট রাজনীতির বিরুদ্ধে কথা বলেনÑ সেই কামাল হোসেন আজকে নষ্ট রাজনীতি বাংলাদেশে যারা করে, নষ্ট রাজনীতির যারা প্রবর্তক, নষ্ট রাজনীতির যারা প্রচারক, নষ্ট রাজনীতিতে যারা বিশ্বাস করেÑ সেই বিএনপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে ড. কামাল হোসেনও প্রমাণ করেছেন তিনিও নষ্ট রাজনীতিক।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার সুষ্পষ্ট নির্দেশনা সারা দেশের জন্য আমি দিয়ে যাচ্ছি। নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হন সঙ্গে সঙ্গে দল থেকে বহিস্কার করা হবে। বিদ্রোহ মানেই বহিস্কার।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, নেতায় নেতায় যত ঐক্যই হউক আওয়ামী লীগের ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে ইনশাল্লাহ পরাজিত করার মতো কোন শক্তি বাংলাদেশে নেই।
গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লা খানের সভাপতিত্বে এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় ওই পথসভায় বক্তব্য রাখেন, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী দীপু মনি, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, গাজীপুর জেলাপরিষদ চেয়ারম্যান আখতারউজ্জামান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মহিবুল আলম চৌধুরী নওফেল, এ কে এম এনামুল হক শামীম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. ওয়াজ উদ্দিন মিয়া প্রমূখ।
পরে সেতু মন্ত্রী টঙ্গী থেকে আওয়ামীলীগের নির্বাচনী গণসংযোগ ও প্রচারণা কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।