Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

এ মাসেই যুব, স্বেচ্ছাসেবক ও মহিলাদলের কমিটি ঘোষণা

অগাষ্ট ১৯, ২০১৬
রাজনীতি
No Comment

BNP Logoনিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘদিন ধরে কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন না হওয়ায় বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অবস্থা নাজুক। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে এসব সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম। বিএনপির নির্বাহী কমিটির পর দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করতে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।

বিগত আন্দোলনে বিএনপির ৯টি অঙ্গসংগঠন ও দুটি সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের ব্যর্থতার কারণে পুরো আন্দোলনে এর প্রভাব পড়ে। ফলে অঙ্গদলগুলোর কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি করা হবে এমন ঘোষণা খালেদা জিয়া নিজেই দিয়েছিলেন। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মনোবল আরও সুসংহত করতে হলে খুব দ্রুত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন নেতা নির্বাচন করা জরুরি। তা না হলে তৃণমূলের অনেকেই হতাশ হয়ে পড়বেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র হজে যাওয়ার আগেই যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলাদলের কমিটিও দিয়ে যাবেন। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে হজে যাবেন তিনি। বিএনপির নির্বাহী কমিটির মতো অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে তরুণদের প্রাধান্য দিবেন বলে আভাস দিয়েছেন খালেদা জিয়া।

যুবদল:
সংগঠনটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ২০১০ সালের ১ মার্চ সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালকে সভাপতি ও সাইফুল আলম নীরবকে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। পরে ২০১০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ২০১ সদস্যবিশিষ্ট যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি অনুমোদন করেন।

যুবদলের বর্তমান সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ইতোমধ্যেই বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন। তাই এ পদে নতুন কেউ দায়িত্ব পাচ্ছেন তা নিশ্চিত করে বলা যায়। সেক্ষেত্রে যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নীরবই সভাপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন ও বিশ্বস্ত হিসেবে যুবদলের দায়িত্ব নীরবকেই দিতে চান। আর সাধারণ সম্পাদক কে পাচ্ছেন তা এখন বলা যাচ্ছেনা। এ পদের জন্য বর্তমান কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মীর নেওয়াজ আলী নেওয়াজ, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তবে সাবেক সহ-ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক করা না হলে যুবদলের সাধারণ সম্পাদকের পদে তাকে দেখা যেতে পারে। তবে নেতাকর্মীরা মনে করেন সালাউদ্দিন টুকুর বিরুদ্ধে ছাত্রদলের কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ থাকায় যুবদলের দায়িত্ব বেগম খালেদা জিয়া তাকে দিবেন না।

বিএনপি ঘোষিত কমিটিতে যুব ও ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক পদ খালি রাখা হয়েছে। জানা গেছে, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ দু’টি পদের সুরাহা হবে।

পুনর্গঠন সম্পর্কে যুবদল সভাপতি সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল গণমাধ্যমকে বলেন, যুবদল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। দলীয় প্রধান যে সময় চাইবেন তখনই আগের কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন কমিটি দেবেন।

স্বেচ্ছাসেবকদল:
২০১০ সালের ২৩ আগস্ট স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৩৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপির তৎকালীন মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন এ কমিটি অনুমোদন করেন। এর আগে ২০০৯ সালের ১১ অক্টোবর হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে সভাপতি ও মীর সরফত আলী সপুকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়।
কয়েক মাস পর সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে শফিউল বারী বাবুকে মনোনীত করা হয়। বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতিকে ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব করা হয়েছে। একই সাথে এবার দলের ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তাকে করা হয়েছে যুগ্ম মহাসচিব। আর সাধারণ সম্পাদক মীর সরফত আলী সপুকে স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক বানানো হয়েছে। শফিউল বারী বাবুও আগের মতোই আছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে। এর আগে স্বেচ্ছাসেবক দলের এই শীর্ষ তিন নেতা নানা সময়ে ছিলেন আত্মগোপনে। এখনো তারা প্রকাশ্যে নেই দীর্ঘ দিন ধরে।
এমতাবস্থায় স্বেচ্ছাসেবকদলকে শক্তিশালী করতে নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি প্রধান। তিনি একটি তালিকা তৈরি করে ফেলেছেন। এ তালিকায় সভাপতি পদে শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল আছেন বলে জানা গেছে।

মহিলাদল:
২০১০ সালের মার্চ মাসে নূরী আরা সাফাকে সভাপতি ও শিরিন সুলতানাকে সাধারণ সম্পাদক করে মহিলা দলের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও এ সংগঠনটি পুনর্গঠন করা হয়নি। জন্মলগ্ন থেকে ১৯৭৯ সালে একবার কাউন্সিল হয়েছিল। বর্তমানে দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩৫১ জন সদস্য রয়েছেন।

এ দিকে গত ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের পর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটিতে নূর-এ আরা সাফাকে বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক বানানো হয়েছে। আর শিরিন সুলতানাকে দেয়া হয়েছে স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক। ফলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে আরো আগে। আর শীর্ষ দুই নেত্রী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়ায় মহিলা দল নিয়ে তাদের আগ্রহে ভাটা পড়েছে। তবে জানা গেছে শহীদ জিয়ার গড়া মহিলা দলের দায়িত্ব বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও আফরোজা আব্বাসের উপর দিতে চান বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।