Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ প্রজন্মের নৈতিক অধ: পতন

অগাষ্ট ২৩, ২০১৫
গাজীপুর মহানগর, মতামত / অভিমত
No Comment

শাহ্ মোঃ মর্তুজ আলী :

ঘড়ির কাঁটা আটটা ছুঁই ছুঁই করছে। কপোত-কপোতীদের পসরার আয়োজন চলছে। একদল, একদল করে আসছে। কোন দলে দুজন, আবার কোন দলে তিনজন বা তারও বেশী, সবার কাধেঁ স্কুল কলেজের ব্যাগ। আর সামনে ফুচকাওয়ালা  মামারা আছে প্রহরীর ন্যায়। ফুচকাওয়ালারা ভাবে, একদল ছেলেমেয়ে প্রতিদিনই এখানে আসে স্কুল, কলেজ, প্রাইভেট ফাঁকি দিয়ে, ঘন্টার পর ঘন্টা গল্প গুজব করে, হাসাহাসি করে, মাঝেমধ্যে ছবিও তোলে। কখনো কখনো হাতাহাতি করে, কখনো হাত ধরাধরি করে, কখনো জড়াজড়ি করে পাশাপাশি বসে থাকে। এখানে দেখার কেউ নেই, বয়স্ক কোন লোক এদিকে আসলেও  না দেখার মতো ভান করে পাশ কাটিয়ে চলে যায়। কারণ এ সমস্ত ছেলেমেয়ে গুলো খুবই বেয়াদব টাইপের।  কিছু বললে এমন সব উত্তর দেয়, যা না শুনাই ভাল। ফুচকার ব্যবসা এখানে ভালোই চলে।
এ দৃশ্য প্রতিদিনকার গাজীপুর স্মৃতিস্তম্ভের। পাশেই গাজীপুরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। গাজীপুরের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বীর শহীদদের স্মরণে এই  স্মৃতিস্তম্ভটি তৈরি করা হয়। এতে তিপান্ন জনের নামের তালিকা ও শহীদদের  বাবার নামের তালিকা লিপিবদ্ধ। স্মৃতিসৌদে বা স্মৃতিস্তম্ভে উঠতে গেলে স্বাভাবিক ভাবে আমরা জানি জুতা খুলে উঠতে হয়। এ আচরণ আমরা সবাই জানি। এ প্রজন্মের কাছে আমরা অনেক কিছু আশা করি। যেমন এ রকম পবিত্র জায়গায় বসে, এ ধরনের আচরণ করা শোভনীয় নয়, পড়াশোনা ফাঁকি দিয়ে, মা -বাবাকে মিথ্যা বলা ঠিক নয় । মা -বাবারা অনেক কষ্ট করে ছেলেমেয়েকে পড়াশোনা করায় মানুষ হবার জন্য। মা -বাবারা এ রকম দৃশ্য দেখলে বুকের পাজরে ব্যথা পায়। লজ্জায় মাথাটা নুয়ে আসে। আর মনে এই ভাবনাটা উঁকি দেয় আমার সন্তান ও কি পড়া ফাঁকি দিয়ে এ রকম নির্জন স্হানের অন্তরালে এধরনের নোংরা অবগাহনে নিমজ্জিত হয়।
মন থেকে এই ধারনাটুকু সরাতে বেশ খানিকক্ষণ সময় লাগে একজন অভিভাবকের।
“দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা” এই গানের কথার রেশ ধরে বলতে হয় অনেক ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে এই স্বাধীনতা। এক প্রজন্ম স্বাধীনতা অর্জন করেছে আর দ্বিতীয়, ততীয় প্রজন্ম হিসেবে আমরা সেটা ভোগ করছি। আজ বাংলায় কথা বলি, বাংলায় স্বপ্ন দেখি। স্বাধীনতা স্বচক্ষে দেখার সুযোগ হয়নি আমাদের এই প্রজন্মের, কিন্তু অনুভূতি ও চেতনাবোধের গুরুত্ব কম নয়।
একজন শিশুর শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি, প্রয়োজন মানসিক বিকাশ ও নৈতিক মূল্যবোধ। এগুলো তৈরীর প্রথম স্থান হলো পরিবার, দ্বিতীয় স্থান  হলো বিদ্যালয়। আর তৃতীয় স্থান হলো তার সামাজিক পরিবেশ, যে পরিবেশে সে বড় হয়।
স্মৃতিস্তম্ভের ঠিক পিছনে দক্ষিণ দিকে সরকারী কোয়ার্টার। আর পূর্ব পাশে এন এস আই এর অফিস। পশ্চিম পাশে শহীদ বরকত ষ্টেডিয়ামের সম্প্রসারিত অংশ। সরকারী কোয়ার্টারের বাসিন্দারা পেছনের জানালাগুলো বেশিরভাগ সময় বন্ধ করে রাখেন। ছেলেমেয়েদের চোখে যেন এ দৃশ্য, না পড়ে। সামনে রাজবাড়ির মাঠ, তার সামনে জেলা প্রশাসক এর কার্যালয়। অথচ দেখার কেউ নেই।
এতো গেল সারাদিনের চিত্র, সন্ধ্যার পরের চিত্র ক্ষেত্র বিশেষে আরও ভয়াবহ। শহীদ বরকত ষ্টেডিয়ামের সম্প্রসারিত অংশের দেয়ালের অংশ ও স্তৃৃতিসৌদের পিছন দিকের অংশ বেশ খানিকটা নিচু থাকায় ঐ এখানটায় অনেক কপোত কপোতি বা কিছু উটকো ছোড়া ছুড়ি মেতে উঠে পৃ্থিবীর আদিমতম খেলায়। অনেক ক্ষেত্রে চটপটি ওয়ালারা ও মধ্যস্থতা কারি হিসাবে ভূমিকা পালন করে।
একটা দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি যুবসমাজ, তরুণ, তরুণীরা। স্কুল, কলেজ ছাত্র, ছাত্রীদের ক্যাম্পাস চত্বরে, ক্যান্টিনে গল্প করার মতো যথেষ্ট জায়গার সংস্থান থাকে। তারপরও এরকম স্থানে এদের অসদাচরণ শুধু নৈতিক অবক্ষয়ের চিহ্ন না, একটা দেশের স্বাধীনতার স্তম্ভ কে অবমূল্যায়নের অশনিসংকেত দেয় আমাদেরকে।
(শাহ্ মোঃ মর্তুজ আলী)
পূর্ব চান্দনা, জয়দেবপুর।