Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এক বছরেও হতভাগ্য নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি

নভেম্বর ৫, ২০১৭
ঝালকাঠি
No Comment


মোঃ আমিনুল ইসলাম, ঝালকাঠি সংবাদদাতা : ২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে সুন্দরবন-৬ লঞ্চের মাস্টার কেবিন থেকে অজ্ঞাত পরিচয় এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। প্রায় এক বছর পার হতে চললেও পুলিশ এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৫ বছর বয়সের ওই নারীর পরিচয় জানতে পারেনি। ঝালকাঠি লঞ্চঘাটে ভেড়ানোর পরে গত ২৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

গত ২৩ নভেম্বর ২০১৬ সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ঝালকাঠিগামী সুন্দরবন-৬ লঞ্চে সদরঘাট থেকে দুইজন পুরুষ ছয় মাসের এক শিশুসহ ওই নারীকে নিয়ে লঞ্চের তৃতীয় তলায় মাস্টার কেবিন ভাড়া করে ওঠেন। সকালে লঞ্চটি ঝালকাঠি ঘাটে ভেড়ানো হলেও বেলা ১১টা পর্যন্ত কেবিনটি তালাবদ্ধ থাকে। বিষয়টি কেবিন বয়দের সন্দেহ হলে তারা লঞ্চের অন্য কর্মকর্তাদের জানায়। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ কেবিনে এসে ডাকাডাকি করলেও কোন সারা না পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে তালা খুলে কেবিন থেকে গলায় ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো ওই নারীর লাশ উদ্ধর করে। এসময় কেবিনে অন্য কাউকে পাওয়া যায়নি।

পুলিশের ধারণা অজ্ঞাত পরিচয়ে ওই নারীকে শ্মসরোধে হত্যার পরে শিশুটিকে নিয়ে কেবিন বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে পুরুষ দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে করে ময়না তদন্ত শেষে ঝালকাঠি পৌর কবরস্থানে অজ্ঞাত হিসেবে দাফন করে।

ঝালকাঠি সদর থানার এসআই আব্দুল হালিম তালুকদার মামলাটি তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি বদলী হয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে ঝালকাঠি থানার এসআই মিজানুর রহমান মামলাটি তদন্ত করছেন। ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে শ্মসরোধ করে ওই নারীকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ রয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত ওই নারীর পরিচয় জানা যায়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ওই নারীর পরিচয় জানতে তিনি গনমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এমএম মাহামুদ হাসান বলেন, অজ্ঞাত পরিচয়ের ওই নারীর পরিচয় উদঘাটনের জন্য আমরা সব ধরনের চেস্টা করেছি। কিন্তু সফলতা এখনও পাইনি। বাংলাদেশের ৬৩২ টি পুলিশ স্টেশনে তার বার্তা ও ওই নারীর লাশের ছবি পাঠানো হয়েছে। নারায়নগঞ্জ ও ঢাকা মিরপুর অঞ্চলের বিভিন্ন থানায় বিশেষভাবে যোগাযোগ করা হয়েছে। কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে লঞ্চ স্টিমারে সিসি ক্যামেরা স্থাপন জরুরী বলে অপরাধ বিশেজ্ঞরা মনে করেন।