Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ১৬ নভেম্বর ২০১৮

উত্তর জনপদের ব্যতিক্রম শহর রানীরবন্দর

rani[1]

মোহাম্মদ মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর(দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুর চিরিরবন্দরের রাতের গ্রামীনশহর রানীরবন্দর ঈদের কেনাকাটা জমজমাট যেখানে ঈদ উৎসবে সারারাত দোকানপাট খোলা থাকে৷ ফলে এখানকার ঈদ বাজার জমে উঠেছে৷ রেডিমেড কাপড়ের বাজারে ভারতীয় সিরিয়ালের নামে পোশাক প্রভাব ফেলেছে৷ তবে বরাবরে মত এবারো দেশী পোশাকের চেয়ে ভারতীয় পোশাকের চাহিদা বেশি। তবে এবারে যোগ হয়েছে পাকিস্থানী কিছু থ্রী-পিস। পাকিস্তানী থ্রী-পিসের ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েদের আকৃষ্ট করে এমন নাম নিয়ে এবারও বাজারে এসেছে আর্কষণীয় ডিজাইনের সালোয়ার কামিজ, শার্ট, প্যান্ট, টি শার্ট। গ্রাহিনীদের জন্য পিওর সূতী, সাউথ, কানজিবরন, কাতান বেনারশী, জামদানী।

কেনাকাটায় মহিলারা ঈদ বাজারকে প্রানবন্ত করেছে তুলেছে। সব দোকানে মহিলা ও তুর“নীদের ভীড় বেশী চোখে পড়ে। তর“নীরা ঝুঁকছে ভারতীয় কিছু আইটেমের দিকে। বাজিরাও মাস্তানী, সাহারা, দিল ওয়ালে, কালা পানি, পাংকা, লেহেঙ্গা, পাখি, দুপাট্টা, শেরওয়ানী, তুমি আসবে বলে, পাকিস্তানি কোটি, পাতাবালিসহ বিভিন্ন ডিজাইনের পোষাক তর“নীদেরকে আকৃষ্ট করেছে। তবে গত বছরের মত এবার কিরনমালার মাতামাতি খানিকটা মøান হয়েছে।

এ শহরের শুধুমাত্র চিরিরবন্দর উপজেলার মানুষ যে কেনাকাটা করতে আসেন, তা কিন্তু নয়৷ চিরিরবন্দর আশেপাশের দিনাজপুর বিরগঞ্জ খান সামা, রানীরগঞ্জ সদর,
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর, ও পার্বতীপুর উপজেলার লোকজনও এখানে কেনাকাটা করতে আসেন৷ তাই যে কোন উত্সবে বেশ জমে উঠে রানীরবন্দর বাজারের কেনাকাটা৷ এ শহরে থান কাপড়, তৈরি পোশাক কেনাকাটার জন্য অত্যাধুনিক সুপার মার্কেট, রুস্তম দোকান মমতাজ দোকান খান সামা আফজাল মারকেট ৷ জুতা-স্যান্ডেল ও কসমেটিকস সামগ্রীর দোকানপাটগুলোও খানসামা রোড এ রয়েছে ।

এদিকে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে প্রায় সব চাকরিজীবী বেতন ও ঈদ বোনাস হাতে পেয়েছেন৷ আর তাই তারা নেমে পড়েছেন নিজের পরিবারের সদস্য ও আত্বীয়-স্বজনদের কেনাকাটায়৷ ফলে মার্কেটে বেচাকেনায় যেন হিড়িক পড়েছে৷ পছন্দের পোশাকটি খুঁজতে এ দোকান থেকে ও দোকান ঢুঁ মারছেন ক্রেতারা৷ সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত মানুষের গিজগিজে ভিড়ে মার্কেট
রীতিমতো ঢোকা মুশকিল হয়ে পড়েছে৷ ব্যবসায়ীরা বিপনী বিতানগুলোয় দেশী- বিদেশী পণ্যের সমাহার ঘটিয়েছেন৷ দেশী কাপড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রেতারা বিদেশী পোশাকও কিনছেন৷

আর দোকানীরাও হাল ফ্যাশনের আনকমন সব পোশাক সংগ্রহে রেখেছেন৷ ভারতীয় বিভিন্ন সিরিয়াল ও নাটকের নায়ক- নায়িকাদের নামের নামকরণ এসব পোশাক৷ তবে দেশী পোশাকের ক্রেতার সংখ্যা এবছর বেশি৷ এখন বেশি বিক্রি হচ্ছে তৈরি পোশাক৷ কারণ থান কাপড় কিনে পোশাক তৈরির সময আর এখন হাতে নেই৷ তাছাড়া টেইলার্সগুলোও পোশাক তৈরি অর্ডার নেয়া একেবারে বন্ধ করে দিয়েছে৷ পুর“ষরা পাঞ্জাবি- পায়জামার সাথে ম্যাচিং করে জুতা- স্যান্ডেল কিনছেন৷ আর নারী ক্রেতারা কিনছেন ইমিটেশন অলংকারসহ কসমেটিক সামগ্রী৷ তবে মার্কেটে ভিড়ের কারণে বেশি দাম আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বহু ক্রেতা৷ এ অবস্থায় অনেক ক্রেতা কেনাকাটায় অনেক কাটছাঁট করছেন৷ খানসামা রোড উপচেপড়া ভিড় ও লোডশেডিং আর তীব্র যানজটের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে৷ তারপরও মানুষ মার্কেটগুলোয় ভিড় ও যানজট উপেক্ষা করে ঈদের কেনাকাটা করছেন৷