Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উত্তরবঙ্গের নওগাঁ-জয়পুরহাটে ভারী শিল্পায়নের হাতছানি দিচ্ছে খনিজ সম্পদ

ngn_pic_(1)[1]
আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : দেশের উত্তরবঙ্গের নওগাঁ-জয়পুরহাটে ভারী শিল্পায়নে সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে খনিজ সম্পদ। প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও চিনামাটির সন্ধান পাওয়ায় আশায় বুক বাঁধছেন এ অঞ্চলের শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা বলছেন- কেবল যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন আর বিনিয়োগ বাড়ানো গেলেই অঞ্চলটি হতে পারে খনিজ সম্পদ আহরোনের একটি বড় ক্ষেত্র। পাশাপাশি গড়ে তোলা যেতে পারে শিল্প জোন।
ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (জিএসবি) সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সাল থেকে স্বাধীনতার আগে-পরে উত্তরাঞ্চলের অন্তত ৫ থেকে ৭ টি স্থানে খনিজ সম্পদের সন্ধানে প্রাথমিক জরিপ চালানো হয়। জরিপের পর কূপ খনন করে নওগাঁর পত্মীতলায় চিনামাটি, জয়পুরহাটের জামালগঞ্জে কয়লার সন্ধান পাওয়া যায়। জিএসবির মহা পরিচালক ড. নেহাল উদ্দিন জানান, জামালগঞ্জ খনি দেশের প্রথম ও সবচেয়ে বড় কয়লা খনি। জয়পুরহাট ও নওগাঁ জেলার প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ খনির বিস্তৃতি। খনিতে প্রায় ১ হাজার ৫০ বিলিয়ন টন কয়লার মজুদ রয়েছে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তিনি জানান, জামালগঞ্জ কয়লা খনিতে রয়েছে মিথেন গ্যাস। কিন্তু কি পরিমান আছে তা এখনও জানা যায়নি। এ বছরের (২০১৬) শুরুতেই ওই খনিতে মিথেন গ্যাসের সম্ভাব্যতা জাচাইয়ে সিবিএম পদ্ধতিতে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ তেল গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশন (পেট্রোবাংলা)।
পেট্রোবাংলা জামালগঞ্জ সিবিএম স্টাডি প্রকল্পের পরিচালক খতারুজ্জামান জানান, জয়পুরহাটের বড় মাঝিপাড়া এলাকায় কূপ খনন চলছে। গ্যাসের পরিমান নির্ণয়ে ওই খনি এলাকায় ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি ফর দি এক্সট্রানশন অফ কোল বেড মিথেন (সিবিএম) এ্যাট জামালগঞ্জ কোল ফিল্ড’ এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৩ টি কূপ খনন করবে করে নিরীক্ষা চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, আশা করা যাচ্ছে জামালগঞ্জ খনি থেকে প্রাপ্ত গ্যাস দেশের জ্বালানী খাতের সাথে একটি বড় অংশ যোগ হবে। এছাড়া প্রাপ্ত গাসের পরিমান আশানুরুপ হলে এখানে একটি পূর্নাঙ্গ বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এদিকে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার তাজপুরে মূল্যবান খনিজ সম্পদের সন্ধানে কাজ শুরু করেছে জিএসবি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তাজপুরে স্তরতাত্তি¡ক তথ্য সংগ্রহ ও খনিজ সম্পদের সভ্যাব্যতা যাচাইয়ে এ মাসের ২০ তারিখ থেকে একটি নিরীক্ষা কূপ খনন শুরু করা হয়েছে। আগামী ৫ থেকে ৭ মাস ধরে অন্তত ৪ হাজার ফুট গভীর করে কূপ খননের মাধ্যমে খনিজ সম্পদের সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষনা চালানো হবে। তাজপুর কূপ খনন টিমের টিম লিডার ও জিএসবির উপ-পরিচালক মহিরুল ইসলাম জানান, তাজপুরে কয়লা পাওয়া গেলে এটি হবে দেশের ৬ষ্ঠ কয়লা খনি। এর আগে যেসব কয়লা খনি আবিষ্কার হয়েছে সেগুলো জিএসবির গবেষকরাই আবিষ্কার করেছেন।
তিনি জানান, যেহেতু তাজপুরে মাটির ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার ফুট নিচে পাললিক শীলার পুরুত্ব বেশী পাওয়া গেছে, সেহেতু ধারনা করা হচ্ছে এখানে কয়লা, সাদা মাটি ও মিথেন গ্যাসসহ মূল্যবান খনিজ সম্পদ রয়েছে। এদিকে এসব খনিজ সম্পদের প্রাপ্তি ও সম্ভাবনাকে আশির্বাদ হিসেবে দেখছেন এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা।
নওগাঁ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী দ্বীন জানান, এ পর্যন্ত কৃষি ভিত্তিক কিছু ক্ষুদ্র ও মাঝাড়ি আকারের শিল্প গড়ে উঠলেও উত্তরাঞ্চলে পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি হয়নি ভারি শিল্পায়নের। কিন্তু প্রাকৃতিক খনজি সম্পদ প্রাপ্তির খবরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন এ অঞ্চলের শিল্পদ্যোক্তারা। তিনি বলেন, তুলনা মূলক ভাবে অনেকটা পিছিয়ে চলছে নওগাঁ, জয়পুরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নাটোরসহ আশেপাশের জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য। গ্যাস ও পর্যাপ্ত বিদ্যুতের অভাবে এ অঞ্চলের শিল্প দিন-দিন মুখ থুবরে পড়ছে। উৎপাদন ব্যায় বেশী হওয়ায় অন্যান্য এলাকার তৈরী পণ্যের দামের সাথে পাল্লা দিয়ে চালানো যাচ্ছে না। তিনি বলেন, স¤প্রতি খনিজ সম্পদ; বিশেষ করে মিথেন গ্যাস প্রাপ্তির খবরে ব্যবসায়ীরা আগামীতে উত্তরাঞ্চলে ভারী শিল্পায়নের স্বপ্ন দেখছেন।
নওগাঁ তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বন্দর রক্ষা কমিটির আহবায়ক এ্যাড. মহোসীন রেজা জানান, যাতায়াত ব্যবস্থাসহ এলাকার কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করানো গেলে উত্তরবঙ্গের জেলা নওগাঁ-জয়পুরহাট হতে পারে খনিজ সম্পদ আহরনের একটি বড় ক্ষেত্র। এছাড়া এই অঞ্চলে একটি পূর্নাঙ্গ শিল্প কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।