Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

উখিয়া ও রামু’র ধানি জমিতে গড়ে উঠেছে অর্ধশতাধিক ইট ভাটা

জানুয়ারি, ২৯, ২০১৪
অর্থ বাণিজ্য, কৃষি, চট্রগ্রাম
No Comment

PIC_Ukhiya,cox_28,01,2014[1]

শফিক আজাদ,উখিয়া প্রতিনিধি ঃ
কক্সবাজারের উখিয়া ও রামু’র ধানি জমিতে গড়ে উঠেছে ইট ভাটা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে কোন অবস্থাতে উর্বর ও ফসলি জমিতে ইটভাটা স্থাপন না করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকলেও তা অমান্য করে এসব ইটের ভাটা গড়ে তুলেছে কতিপয় ভূমি খেকো। সংশ্লিষ্ঠ কৃষি অফিসারকে কৌশলে ম্যানেজ করে অনাপত্তিপত্র দিয়ে ধানি জমিতে ইটভাটা গড়ে তোলার সুযোগ করে দিয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ফলে কৃষি জমির বুক চিরে যত্রতত্র ইটভাটা তৈরী করায় খাদ্য ঘাতটির পাশাপাশি দুষিত হচ্ছে স্থানীয় পরিবেশ।
সরজমিন উখিয়া ও রামু’র বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের সাবেক রুমখাঁ, ক্যাশপাড়া, পাগলির বিল, পাতাবাড়ী, খেওয়াছড়ি,  রত্মপালং ইউনিয়নের তুলাতলি ও পার্শ্ববর্তী রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের রাবেতা, ধোয়াপালং, খুনিয়াপালং, দারিয়ারদিঘি সহ বিভিন্ন এলাকার ধানির জমিতে প্রায় অর্ধশতাধিক ইট ভাটা গড়ে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ঠ দায়িত্বশীল সুত্রে জানা যায়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা আছে যে, ফসল উৎপাদন হয় এমন জমিতে ইট ভাটা স্থাপন করা যাবেনা। আরো উল্লেখ করা হয়, উর্বর  ও দু’ফসলি জমিতে ইট ভাটা তৈরী করা নিয়ে সম্পূর্ণ নিষেধ রয়েছে। কেবলমাত্র পতিত জমিতে ইট ভাটা স্থাপন করা যাবে। কেউ ইট ভাটা তৈরীর পুর্বে ধানি জমি কি না এমন অনাপত্তিপত্র নেওয়ার জন্য বিধি বিধান রয়েছে। উক্ত অনাপত্তিপত্র প্রদান করবেন ¯^-¯^ উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা। সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তা সরজমিন পরিদর্শন করে জায়গাটি কৃষি জমি কিংবা পতিত জমি কিনা তা ¯^ চুক্ষে দেখে জেলা প্রশাসন বরাবরে পত্র প্রদান করবে। অভিযোগ রয়েছে, ইটভাটার মালিকগণ রামু ও উখিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে কৃষি জমিকে পতিত জমি উল্লেখ করে ইটভাটা তৈরী করা হলে কোন অসুবিধা হবে না মর্র্মে অনাপত্তিপত্র দিয়েছে। যার ফলে কৃষি ও দু’ফসলি উর্বর জমিতে কোন বাধা ছাড়াই ইটের ভাটা স্থাপন করে যাচ্ছে মালিকগণ।
স্থানীয় সচেতন মহল জানান, কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে ধানি জমিতে ইট ভাটা গড়ে তোলায় খাদ্য শষ্য উৎপাদন কমে গেছে। জমির উর্বরতার টপসয়েল ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। এমনকি লোকালয়ের অভ্যান্তরে হওয়ায় ইট ভাটার কালো নিগৃত ধোঁয়ায় পরিবেশ কলুষিত হয়ে  বিভিন্ন ফলজ গাছের ফল মূল ও হ্রাস পাচ্ছে কৃষি জমির উৎপাদন। তারা আরো বলেন, এছাড়াও কয়লা দিয়ে ইটভাটার ইট পুড়ানোর জন্য বলা হলেও গাছের লাকড়ি দিয়ে ইট পুড়ানো হচ্ছে। যার কারনে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌছেছে বন সম্পদ।
এব্যাপারে জানতে চাইলে রামু কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, মন্ত্রণালয়ের সুষ্পষ্ট উল্লেখ্য রয়েছে উর্বর, দু’ফসলি কৃষি জমিতে ইট ভাটা না করার নিষেধ রয়েছে। কিছু কিছু ইট ভাটা পতিত জমিতে হয়েছে। কৃষি জমিতে ইটভাটা তৈরীর জন্য অনাপত্তিপত্র দেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যায়। এদিকে উখিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু কাউচারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি সবে মাত্র যোগদান করেছি, উখিয়ার কৃষি জমিতে যদি ইটভাটা গড়ে উঠে তা দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কোন কাজ করলে সংশ্লিষ্ঠ ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা করা হবে।