Pages

Categories

Search

আজ- রবিবার ১৮ নভেম্বর ২০১৮

উখিয়ায় আমের বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা

ফেব্রুয়ারি ৫, ২০১৪
অর্থ বাণিজ্য, কৃষি, চট্রগ্রাম
No Comment

শফিক আজাদ, উখিয়া প্রতিনিধি ঃ
উখিয়ার চলতি মাঘ মাসে আমের মূকূল আসায় অনেকে বলছে আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাব । পৌষ ও আষাঢ় মাসে যখন একটু একটু বৃষ্টি হলেই যেখানে আমের মূকূল আসার কথা সেখানে এটি ভিন্ন চিত্র। এবার মাঘ মাসের শুরুতেই উখিয়ায় আম গাছ মূকূলে ছেয়ে গেছে। কৃষিবিদদের তথ্য মতে, শীত মৌসুম, তাই আগাম মূকূল এসেছে। তবে সঠিক পরিচর্যা না পেলে এ মূকূলের অধিকাংশ ঝরে পড়ার আশংকা রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের লোকজন বলছেন কোন রোগ বালাই না হলে এবার আমের বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।
সুত্র মতে, বিগত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় কৃষকেরা হাটবাজারে আম বাজারজাত করণের মাধ্যমে আর্থিক ভাবে লাভবান হওয়ার সুবাধে উখিয়া বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিক ভাবে আম চাষ ও উন্নয়ন করে অনেকেই আর্থিক ভাবে শ্বাবলম্ভি হয়ে উঠেছে। তাদের অনুসরণ করে এ উপজেলার বিভিন্ন সরকারী বনভূমি, পরিত্যাক্ত খাস জমি, বসতভিটা সহ প্রভৃতি অনাবাদি জায়গা গুলোতে চাষিরা আমের চাষাবাদ করেছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৪৪২ হেক্টর জমিতে আম চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রায় হাজারের অধিক জমিতে এবার আম চাষাবাদ হয়েছে। বিশেষ করে মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আসা রাংগুই জাতের আম চাষাবাদ করে মাত্র ৩ বছরের ব্যাবধানে আম বাজারজাত করতে পারায় ব্যাপক হারে এ আমের চাষাবাদ হয়েছে। স্থানীয় ভাবে এখানে উৎপাদিত রাংগুই জাতের আম ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও উত্তারাঞ্চলে এসব আম ৮০-৯০টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সুশ্বাধু জাতের এ আমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় এ উপজেলার ঘরে ঘরে এ আমের উৎপাদন হচ্ছে। স্থানীয় একাধিক কৃষক অভিযোগ করে জানান, পার্শ্ববর্তী দেশ মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে বিপূল পরিমাণ আম পাচার হয়ে আসার কারনে স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত আমের ন্যায্যমূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। আম পাচার প্রতিরোধ করার জন্য চাষিরা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সীমান্তের বালূখালী কাষ্টম্স সুপার তহিদুল ইসলাম জানান, মিয়ানমার থেকে চোরাইপথে আসা আম আটক করে নিলামে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তাই মিয়ানমার থেকে আম আসার কোন সম্ভাবনা নেই।
সরজমিন চাকবৈঠা গ্রামের অবসর প্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাষ্টার ছিদ্দিক আহাম্মদের হাতে গড়া রাংগুই জাতের আম বাগান ঘুরে তার সাথে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষকতার পেশা থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রায় ৫একর জমির উপর সে আম চাষাবাদ করেছে। মাত্র ৩ বছরের ব্যাবধানে সে আম বাজারজাত করতে পারায় সে ঐ বাগানকে আরো সম্প্রসারণ করে বাণিজ্যিক ভাবে আম উৎপাদন করার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করছে। সে জানান, বিগত বছরে আমের মূকূল আশাতিত ভাবে কম হলেও প্রায় হাজারের অধিক গাছ থেকে উৎপাদিত আম বাজারজাত করে লক্ষাধিক টাকা আয় করেছে। এভাবে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক আম বাগান এখানে রয়েছে। বাগান সংশ্লিষ্ঠ লোকজন জানান, চলতি মৌসুমে যেভাবে আমের মূকূল এসেছে সে ভাবে আম ধরলে অনেকেই আম বিক্রি করে শ্বাবলম্ভি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  স্থানীয় কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন জানান, আমের মূকূলে এক ধরনের রোগ আসতে পারে। যেমন মাইক ও ছত্রাক নামক রোগে আক্রান্ত হলে আম গাছে বেশি পরিমান সেচের ব্যাবস্থা করতে হবে। তাহলে ঐসব রোগে মূকূলের কোন ক্ষতি করতে পারবেনা। উপজেলা কৃষি অফিসার আবু কাউচার মোহাম্মদ সরওয়ার জাহান, কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার আমের বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে।