Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উখিয়ার ৮টি খাল, অসংখ্য পুকুর ও জলাশয় শুকিয়ে মরুভূমি

শফিক আজাদ, উখিয়া প্রতিনিধি:
উখিয়ার ঐতিহ্যবাহি ৮টি খাল, অসংখ্য পুকুর ও জলাশয় শুকিয়ে মরুভুমিতে পরিণত হয়েছে। জোয়ার-ভাটার রেজু খাল পরিণত হয়েছে খেলার মাঠে। অধিকাংশ খালের বুকে শাকসবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে। প্রচন্ড তাপদাহে ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অভিজ্ঞজনেরা বলছেন, নির্বিচারে পাহাড় কর্তন করার ফলে বর্ষায় পাহাড়ী ঢলের সাথে নেমে আসা বালি, মাটিতে খালের তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বর্ষায় বন্যা, শুষ্ক মৌসুমে পানি সমস্য নিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে আড়াই লক্ষাধিক মানুষ।
এ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া রেজু খাল, চাকবৈঠা ডিগলিয়া খাল, হিজলিয়া খাল, গয়ালমারা খাল, পালংখালী খাল, দোছরী খাল, থিমছড়ি খাল, ধুরুংখালী খাল ও রেজু আমতলী খাল সহ ৮টি খালে বর্ষার সময় প্রচুর পানি থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে এসব খালগুলো শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ওয়ালিদং পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উৎপত্তি হওয়া রেজু খালটি বিভিন্ন ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরের সাথে সংযুক্ত হওয়ায় রেজু খালের শাখা-প্রশাখা কয়েকটি খালে নিয়মিত জোয়ার ভাটা হয়ে আসছিল। জোয়ারের পানিতে খালের পাড়ে শাকসবজি আবাদ হয়ে অধিকাংশ পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছে। পাশাপাশি খালের পাড়ে বসবাসরত পরিবারগুলো জোয়ারের পানি ব্যবহার করে জীবন ধারণ করে আসছিল।
সরেজমিন রেজু খালের মনির মার্কেট সোনাইছড়ি, ছোট ইনানী, বড় ইনানী ঘুরে দেখা যায়, খাল শুকিয়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ছেলে-মেয়েরা খালের বুকে ফুটবল খেলে আনন্দ উপভোগ করছে। আমতলী খালে আউশ সহ শাকসবজি চাষাবাদ করা হচ্ছে। রেজু খালের পাড়ে বসবাসরত বয়োবৃদ্ধ জসিম উদ্দিন জানান, এ খাল থেকে ৭/৮ জনের সিন্ডিকেট নিয়মিত বালি উত্তোলন করে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে সরবরাহ করছে। পুলিশ মাঝে মধ্যে হানা দিয়ে বালি ভর্তি ট্রাক আটক করলেও বালি উত্তোলন থামছে না। স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, বর্ষায় খালের ভাঙ্গন থেকে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গাইড ওয়ালটি যে কোন মুহুর্তে ধ্বসে পড়তে পারে। তিনি জানান, বালি উত্তোলন বন্ধ করে গাইড ওয়ালটি রক্ষার জন্য উপজেলা প্রশাসনের বরাবরে অভিযোগ করেও কোন কাজ হয়নি।
এ উপজেলার পালংখালী খাল দখল করে প্রায় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় পালংখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি এমএ মনজুর অভিযোগ করে জানান, খাল জবর দখল করে অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলার কারণে প্রতি বর্ষা মৌসুমে এখানে বন্যার সৃষ্টি হয়ে শত শত একর ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ঘর বাড়ি ধ্বসে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। উক্ত খালের উপর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট অভিযোগ করা হয়েছে। এভাবে উখিয়ার ৮টি খাল জবর দখল সহ অপরিকল্পিত মাটির বাঁধ দিয়ে চাষাবাদ করার কারণে খালগুলো নব্যতা হারিয়ে বর্ষায় বন্যা ও শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় কৃষিবিদ জামাল উদ্দিন জানান, খালের পানি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার কারণে উপজেলার অধিকাংশ স্থানে তীব্র খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
একাধিক গ্রামবাসী জানান, বসত বাড়িতে ব্যবহৃত নলকুপের পানি দিয়ে আউশ ও শাকসবজি চাষাবাদ করে অধিকাংশ পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে আসলেও পানি সংকটের কারণে এসব পরিবারগুলোতে আর্থিক সংকটে পড়তে হয়েছে। বিগত মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এর আওতায় খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও তা শুধু লোক দেখানো। খাল খনন করে খালের পাড়ে অপরিকল্পিত মাটি রাখার ফলে এসব মাটি বৃষ্টির পানিতে পূণরায় খালে নেমে গেছে। এ ব্যাপারে বিএডিসির প্রকৌশলী আবুল কাশেম জানান, খাল খনন করতে গিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। যে কারণে যথাযথ খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়নি। যে কারণে খালের পূর্বাবস্থার সৃষ্টি হয়ে খালগুলো নব্যতা হারিয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: সাইফুল ইসলাম জানান, উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ে খাল রক্ষায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করেছে। যা এখনো হাতে এসে পৌছেনি। তিনি বলেন, উক্ত নির্দেশ বাস্তবায়িত হলে খালগুলো আবারো সচল হয়ে উঠার সম্ভাবনা রয়েছে।