Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

উখিয়ার পাহাড়ে কমলা চাষে ব্যাপক সফলতা

ফেব্রুয়ারি ৪, ২০১৪
অর্থ বাণিজ্য, কৃষি, চট্রগ্রাম
No Comment

PIC-Ukhiya,_03,02,2014[1]

শফিক আজাদ, উখিয়া প্রতিনিধি ঃ
উখিয়ার পার্শ্ববর্তী ঘুমধুম পরিত্যাক্ত পাহাড়ী এলাকায় পরিক্ষামূলক কমলা চাষ করে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে বেসরকারী বাণিজ্যিক প্রতিষ্টান রেডিয়েন্ট ফার্মসিউটিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড। পার্বত্য বান্দরবান জেলা প্রশাসন থেকে অস্থায়ী বন্দোবস্তি গ্রহন পূর্বক প্রায় ৬০ একর এলাকা জুড়ে আম,লেচু, পেয়ারা, মালটা, লটকন, লেবু, কুল, ডালিমের পাশাপাশি কমলা আশাতিত ভাবে ফলন দেখা দেওয়ায় সংশ্লিষ্টরা উক্ত বাগানকে আরো সম্প্রসারিত করে এলাকার বেকার যুবকদের কাজে লাগিয়ে কমলার বাম্পার উৎপাদনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে বলে দাবী করে সংশ্লিষ্টরা জানান, কমলা বাগানের পাশাপাশি একটি পিকনিক স্পট সহ বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা হলে অদুর ভবিষ্যতে দেশি-বিদেশী পর্যটকদের আগমন গড়বে। এতে দেশ ও সরকারের সুনাম বৃদ্ধির সাথে সাথে প্রচুর পরিমাণ রাজশ্ব আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বালূখালী টেলিভিশন উপ-কেন্দ্রের ২’শ গজ উত্তরে ঘুমধুম পাহাড়ী এলাকা। যেখানে একসময় ভয়ংকর জীবজন্তুর বসবাস ছিল। গত কয়েক বছর ধরে সংঘবদ্ধ বনদস্যূদের ভয়াল থাবায় বন সম্পদ নিচ্ছিন্ন হয়ে এটি বর্তমানে পরিত্যাক্ত এলাকায় পরিনত হয়েছে। প্রকল্পের ব্যাবস্থাপনা পরিচালক রেডিয়েন্ট ফার্মসিউটিক্যাল কোম্পানী লিমিটেড শ্বাত্ত¦াধিকারী শাহারিয়ার আল লতিফ জাহিদী জানান, ২০১০ সালে প্রকল্পটি অনুমোদন গ্রহন পূর্বক প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাটির গুণাগুণ পরিক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে কমলা চাষের উপযুগী মান সম্পন্ন বলে প্রতিয়ামান হওয়ায় ২০১১ সালে কমলা চাষ প্রকল্পের কাজ শুরু করা হয়। সর্বমোট ৬০ একর জায়গার উপর আম, লিচু, পেয়ারা, মালটা, লটকন, লেবু, ডালিম, কুল প্রভৃতি ফলজ জাতের প্রায় ৮হাজার চারা রোপন করা হলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিক চারা রোপন করা হয়েছে কমলা ও মালটা। তিনি জানান, স্থানীয় ভাবে ১ কেজি মালটা ও কমলা দেড়’শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রকল্পের উৎপাদিত মালটা ও কমলা আরো অধিকতর কম দামে স্থানীয় ভাবে বাজারজাত করার পর উদ্বৃত কমলা ও মালটা ঢাকায় চালান করে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে প্রায় ২শতাধিক গাছে কমলা ও মালটা ধরেছে। আগামী মৌসুমে সবকটি গাছে ফল ধরার সম্ভাবনা রয়েছে বলে প্রকৌশলী জানিয়েছেন। তা যদি হয়ে থাকে আগামী মৌসুমে কয়েক লক্ষ টাকার কমলা ও মালটা সহ বিভিন্ন প্রকার ফলজ দ্রব্য বাজারজাত করা যাবে।
প্রকল্পের পরিচালক হাছান জাহিদ চৌধুরী জানান, রাতের বেলায় বন্য হাতিরদল বাগানে অবাধ বিচরণ করছে। তাছাড়া ও স্থানীয় গরু-ছাগলের হাত থেকে যদি বাগান রক্ষা করা যায়, তাহলে এ বাগানের আয় থেকে শতাধিক শ্রমিকের কর্মস্থানের পাশাপাশি প্রতি মৌসুমে ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকা আয় করা সম্ভব। তিনি জানান, কক্সবাজারে এ প্রথম পরিক্ষামূলক কমলা ও মালটা চাষের বাগান দেখার প্রতিদিন অসংখ্য লোকজন আসা-যাওয়া করছে। হয়তো এ বাগানের ধারাবাহিকতা এখানে আরো একাধিক বাগান গড়ে উঠতে পারে। এভাবে এককালে গভীর অরন্য ঘেরা ঘুমধুম শহরে পরিনত হতে বেশি সময় লাগবেনা। তবে এলাকাবাসির আন্তরিকতার বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।
গতকাল সোমবার সরজমিন কমলা চাষ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, শ্রমিকেরা বাগান পরিচর্যা ব্যস্থ সয়ম কাটাচ্ছে। কর্মচারী মোহাম্মদ হোছন ও সাহাব উদ্দিন জানান, বাগানের সবকটি গাছে ফল ধরলে দেখার মত দৃশ্য হবে। পাশাপাশি বাগানের ফল বিক্রি করে এলাকার শতশত পরিবার আর্থিক ভাবে শ্বাবলম্ভি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।