Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ঈদকে সামনে রেখে মহাব্যস্ততায় সময় পার করছেন ফুলবাড়ীর কামার শিল্পীরা

অগাষ্ট ৩০, ২০১৭
দিনাজপুর
No Comment

প্লাবন গুপ্ত শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দিন-রাত সমান তালে টুং টাং শব্দে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর কামার শিল্পীরা। তাদের যেন দম ফেলবারও ফুরসত নেই।
বর্তমান আধুনিক সরঞ্জামাদির প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও পবিত্র ঈদুল আযাহাকে সামনে রেখে বেশ জমে ওঠেছে এ শিল্পের চাহিদা। কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত অনায়াসে হাতুরি চালিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয় কামার শিল্পীরা। কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় গতকাল বুধবার থেকে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন বেশ কিছু কামার শিল্পী।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদ রোডসহ মাদিলাহাট, আটপুকুরহাট, পুখুরীহাট, আলাদিপুর, শিবনগর, খয়েরবাড়ি, আমডুঙ্গিহাট-বাজারে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দা, বটি, ছোড়া, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি তৈরিতে মহাব্যস্ততায় সময় পার করছেন এসব শিল্পী। স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে এসব সরঞ্জামাদি পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়।
স্থানীয় কামার শিল্পী পরিমল চন্দ্র রায়, নিরেন রায় ও খোকন চন্দ্র রায় বলেন, আগে চামড়ার তৈরি ভাতী টেনে বাতাস দিয়ে লোহা পোরানো হতো। কিন্তু এখন বৈদ্যুতিক মটারের সাহায্যে বাতাস দিয়ে লোহা গরম ও বৈদ্যুতিক সান দিয়ে প্রয়োজনীয় ধারালো সরঞ্জামাদি তৈরি করা হচ্ছে। এতে অল্প সময়ে বেশি মালামাল তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আকার ও আকৃতি সুন্দর হওয়ায় ক্রেতারা সহজেই আকৃষ্ট হচ্ছেন। উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভয়াবহ বন্যার পরও এসব সরঞ্জামাদি বিক্রিতে তেমন ভাটা পড়েনি। বিক্রি সন্তোষজনক হচ্ছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তাদের তৈরি সরঞ্জামাদি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে।
কাঁটাবাড়ি গ্রামের কামার শিল্পী কালিকান্ত রায় বলেন, বাপ-দাদার এই পেশা তিনিও আকড়ে ধরে রেখেছেন শত কষ্টের মাঝেও। সারা বছর তেমন কাজ না হলেও কুরবানী ঈদের সময় তারা যে কাজ করেন মোটামুটি ছয় মাসের সংসার চালানোর আয় তাদের হয়ে যায়। ঈদকে সামনে রেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও কসাইদের কাছ থেকে অর্ডার নেয়া ছাড়াও পাইকারী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রচুর কাজের অর্ডার পেয়েছেন। তাই গত দু’সপ্তাহ থেকে তিনিসহ তার দোকানের চারজন কর্মচারী দিনরাত সমান তালে কাজ করছেন। মজুরি বেড়ে যাওয়ায় দোকানের কর্মচারিদের দৈনিক মজুরি দিতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৭০০টাকা পর্যন্ত। ৬০ থেকে ৯০টাকা কেজি দরে লোহা কিনে এনে দা, বটি, ছোড়া, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি করা হয়। বিক্রি হয় পশু জবাই করার বড়-ছোঁড়া ৬০০-৯০০টাকা, দাঁ ২০০-৫০০টাকা, বটি ২৫০-৪০০টাকা, কুড়াল ৩৫০-৬০০টাকা পর্যন্ত। লোহা, বিদ্যুৎ, কয়লাসহ শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় হাঁড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেও আশানুরুপ লাভ হচ্ছে না।