Pages

Categories

Search

আজ- মঙ্গলবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে বাগানের আম নষ্ট

মে ২০, ২০১৭
কৃষি, নওগাঁ, পরিবেশ
No Comment


মোঃ হাবিবুর রহমান, মান্দা (নওগাঁ) সংবাদদাতাঃ নওগাঁর পত্মীতলায় পাটিচরা ইউনিয়নের কাশীপুর মৌজায় অবস্থিত দুটি ইটভাটার কালো ধোঁয়া ও বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে ২০ একর জমির প্রায় ৩০টি আম বাগানের আম পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধোঁয়া ও গ্যাসের কারণে আমের গ্রোথ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পচে যাচ্ছে আম। আম ছাড়াও কলাবাগান, ধান ও ভুট্রা খেতেরও ক্ষতি হয়েছে বলে ভুক্তভোগি কৃষকরা অভিযোগে জানান। ইট ভাটার কারণে চলতি মৌসুমে এলাকার ৪০-৫০জন কৃষকের ৫০-৬০লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও কৃষকরা দাবী করেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, কাশীপুর মৌজায় বিপিএল ও বিপিএল জিগ জ্যাগ নামে দুটি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে বিপিএল ইটভাটাটি প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত হয়। আর বিপিএল জিগ জ্যাগ ইটভাটাটি চালু হয় ২০১৬ সালে। ইটভাটা দুটির মালিক বোরহান উদ্দিন পলাশ। সরেজমিনে কাশীপুরে গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার প্রায় ৬০ বিঘা আমবাগানের অধিকাংশ আমের গায়ে কালচে দাগ পড়েছে। পচন ধরায় গাছের নীচে পঁচে পড়ে আছে বহু আম। অন্যান্য এলাকার তুলনায় বাগানের আমের সাইজ ছোট। ছুঁচালো হয়ে গেছে আমের নীচের অংশ। আমচাষী আনিছুর রহমান জানান, কাশীপুরে তাঁর ১৫ বিঘা জমিতে আম বাগান আছে। গত ১০ বছর ধরে তিনি এখানে আম চাষ করেন। প্রথম দিকে আমের ভালো ফলন পেলেও তিনি লক্ষ্য করছেন বছর বছর আমের ফলন কমছে। গত বছর বিপিএল জিগ জ্যাগ ইটভাটাটি চালু হওয়ায় এ বছর বাগানে আমের অবস্থা খুবই খারাপ। কানসাটের এক ব্যাপারীর কাছে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকায় তিনি আগাম আম বাগান বিক্রয় করে দিলেও বাগানের আম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় বেপারীকে টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। কাশীপুর গ্রামের আমচাষী আবদুল করিম বলেন, ‘৪০ শতক জমির ওপর তাঁর বাগান। পরিবারের সকলেই শ্রম দিয়ে বাগানটি তৈরী করেছেন। চলতি বছরেই প্রথম বারের মতো বাগানে থোকায় থোকায় ধরেছিল আমরুপালি জাতের সুস্বাদু আম। আম নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। গত ১৫ দিন আগে থেকে হঠাৎ আমে পচন ধরতে শুরু করায় তিনি এখন চোখে সর্ষে ফুল দেখছেন। একই গ্রামের আমচাষী মাসুদ রহমান, বাবু চৌধুরী, হরিচরণ, সুনীল ও দিলিপ কুমার জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে রাতে ঐ ইটভাটা থেকে ধোঁয়া ও গ্যাস বের করে দেওয়ায় পরদিন সকাল থেকেই দু-চারটা করে পাতা ঝরতে থাকে। এর দুই এক দিন পর থেকে আমের নিচের অংশে কালচে দাগ (শিল পড়ার মতো দাগ) হয়ে গাছ থেকে আম ঝরে পড়ে যেতে থাকে। আমের আগার অংশ থেকে পচন শুরু হয়ে চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পুরো আম পঁচে বোটাসহ ঝড়ে পড়ছে। এ বিষয়ে বিপিএল ও বিপিএল জিগ জ্যাগ ইটভাটরা সত্তরাধিকারী বোরহান উদ্দিন পলাশ বলেন, ‘আমার ইটভাটার লাইসেন্স রয়েছে। পরিবেশগত ছাড়পত্রও আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে ইটভাটায় ইট তৈরি করি। ভাটার আশপাশে কার কি ক্ষতি হয়েছে এটা দেখার দায়িত্ব আমার নই। কীটনাশক বা প্রাকৃতিক কারণেও বাগানের আম পচে যেতে পারে। এর এজন্য আমি দায়ী নই। ক্ষতিপূরণ দিতে হলে প্রশাসন দেবে।’ এ বিষয়ে পত্মীতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, বাগানের আম পচে যাওয়ার খবর শুনে ওই এলাকায় আমবাগান পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপ-পরিচালকও সরেজমিনে বাগানগুলো ঘুরে দেখেছেন। ইটভাটার গ্যাস ও কালো ধোঁয়ার কারণে আম ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় কার্বন মনোক্সাইড ও সালফার ডাই অক্সাইড নির্গত হয়। এই ধোঁয়ার কারণে আম পচে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল মালেক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।