Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮

আ.লীগ মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর সমর্থিত নেতাকর্মীকে কুপিয়ে জখম, সমর্থকরা এলাকা ছাড়া


গাজীপুর দর্পণ রিপোর্ট : গাজীপুর-৫ আসন কালিগঞ্জের আ.লীগ মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থী আ.লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান সমর্থিত নেতাকর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কুপয়ে বাহাদুর সাদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মো. রাসেল (২৭) কে আহতাবস্থায় গাজীপুর তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়।
গাজীপুর-৫ কালিগঞ্জ আসনে আ.লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন মেহের আফরুজ চুমকী। এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক এমপি ডাকসু’র সাবেক ভিপি ও জিএস এবং গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান। প্রাথী চুড়ান্ত হওয়ার পর বর্তমান এমপি ও প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আর এ অবস্থায় আওয়ামীলীগের মনোনয়নবঞ্চিত প্রার্থীর পক্ষের নেতা কর্মীরা হামলা শিকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নিজ দলের প্রতিপক্ষদের মামলা হামলার ভয়ে আখতারুজ্জামান সমর্থকরা এখন এলাকা ছাড়া।


এলাকাবাসী ও দলীয় সুত্র জানায়, গত ২৯ নভেম্বর রাতে কালিগঞ্জ উপজেলার জামালপুরের বাশাইর এলাকায় আখতারুজ্জামান সমর্থক রাসেল(২৬) নিজ দলের প্রতিপক্ষদের মামলা হামলায় গুরুতর আহত হয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খলাপাড়া গ্রামের আকবর হোসেনের পুত্র রাসেল বাহাদুরসাদী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা। বৃহস্পতিবার রাতে খেয়াঘাট এলাকা থেকে বাড়ি ফেরার সময় সন্ত্রাসীরা হামলা করে আহত করে। এত রাসেল মাথা, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়।
একাধিক সুত্র জানায়, কালিগঞ্জে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আভ্যন্তরীণ দ্ব›দ্ব চলে আসছে চুমকী ও আখতারুজ্জামান সমর্থকদের মধ্যে। গত দেড় মাস আগে উপজেলার চুপাইর মাঠে শহীদ ময়েজ উদ্দিনের স্মরণ সভায় দু’ পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই সময় ২৮ জন নেতা কর্মী গুরুতর আহত হয়। আখতারুজ্জামান সমর্থকদের অভিযোগ, মামলা হামলার ভয়ে প্রায় অর্ধশত নেতা এলাকাছাড়া।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের কালিগঞ্জ থেকে আ.লীগ মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান ও বর্তমান এমপি, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি। দলীয় মনোনয়ন পেতে দলের উচ্চ পর্যায়ে উভয়ে জোর লবিং চালায়। এতে সংসদীয় আসনে আ.লীগ পরিবারে দ্বিধাবিভক্তির সৃষ্টি হয়। অবশেষে চুমকি দলীয় মনোনয়ন পেলে সাধারণ ভোটার ও আ.লীগ পরিবারে স্বস্তি ফিরে এলেও আখতারুজ্জামান ও চুমকি সমর্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে রেষারেষি থেকেই যায়। স্থানীয় ও আখতারুজ্জামান সমর্থিত নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, ২৯ তারিখ আনুমানিক রাত সাড়ে আটটায় চুমকি সমর্থিত নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে জামালপুর বাজারে অবস্থানরত আখরাতারুজ্জামান সমর্থিত নেতাকর্মিদের ওপর চাপাতি, দা, লাঠি ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র সহ হামলা চালায়। এ সময় অন্যরা দৌড়ে পালিয়ে গেলেও রাসেল উপর্যপরি লাঠির আঘাত এবং চাপাতির কুপে মাটিতে লুটিয়ে পরে। কুপিয়ে নেতাকর্মীরা চলে যাওয়ার পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় রাসেলকে তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়।


এ বিষয়ে তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আলী হায়দার বলেন, রোগীর চোখ ও মাথায় মারাত্মক জখম হলেও এখন আশঙ্কামুক্ত আছে। আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।
কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সাবেক ভিপি ও আ.লীগ নেতা বেনজির আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আ.লীগ পরিবারের হয়েও এমন নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে যা খুবই দুঃখজনক। আমরা এ ব্যাপারে শীঘ্রই আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
রাসেলকে দেখতে এসে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও কেন্দ্রীয় আ.লীগ সদস্য আখতারুজ্জামান বলেন, আমি এ সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা প্রকাশ করছি। এসময় তাঁর সাথে ছিলেন, গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ও বাহাদুরসাদী ইউপির চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন আহমেদ, জামালপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল আলম, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ম বজলু রহমান, কালিগঞ্জ শ্রমিক কলেজের সাবেক ভিপি বেনজির আহম্মেদ, কালিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আফসার হোসেন, যুবলীগ নেতা কাজী সায়েম, মো: আবুল বাসার, সাদিকুর রহমান, রুহুল আমীন ভুঁইয়া ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাজী নাসির প্রমূখ।
কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবু বকর মিয়া জানান, রাসেল নামে একজনকে মারধরের ঘটনার কথা শুনে হাসপাতালে গিয়ে পাইনি। তবে কেই অভিযোগ নিয়ে আসেনি।