Pages

Categories

Search

আজ- বুধবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার আসামী নুরুল ইসলামের মুক্তির দাবীকরলেন হাসান সরকার

Tongi_Janaja_Pic
টঙ্গী প্রতিনিধি ঃ গাজীপুর-২ আসনের আওয়ামীলীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় বাদী পক্ষের বার বার কালক্ষেপনের অভিযোগ এনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাসান উদ্দিন সরকার বলেছেন, বাদী পক্ষের অহেতুক কালক্ষেপনে মামলা বিল¤ি^ত হয় উপমহাদেশের বিচারাঙ্গনে এমন কোন নজির খোঁজে পাওয়া যাবে না।
আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় ফাঁসির দন্ডাদেশপ্রাপ্ত হুকুমের আসামী যুবদলের সাবেক কেন্দ্রীয় শ্রম ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক নুরুল ইসলাম সরকারের স্ত্রী শাহানা সরকারের নামাযে জানাযায় হাসান সরকার একথা বলেন। শাহানা সরকার গত সোমবার রাতে ইন্তেকাল করেন। নুরুল ইসলাম সরকারকে প্যারোলে মুক্তির সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় অবশেষে তার শেষ দেখা ছাড়াই  বুধবার ইজতেমা মাঠে নিহতের নামাযে জানাযা শেষে লাশ পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়।
জানাযা পূর্ব বক্তৃতায় নূরুল ইসলাম সরকারের বড় ভাই হাসান সরকার বাদী পক্ষের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, তাদের ভয় কিসের; সরকার তাদের তবুও কি তারা ন্যায় বিচার পাবে না ? নূরুল ইসলাম সরকার দীর্ঘ ১০ বছর কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্টে মানবেতর জীবন যাপন করছে উল্লেখ করে হাসান সরকার বলেন, আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারের যদি বিন্দু পরিমাণও সম্পৃক্ততা থাকে তবও তার বিচার হলে আমার কোন আপত্তি থাকবে না। আর যদি তার কোন সম্পৃক্ততা না থাকে তবে তাকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেয়া হউক। আমাদের আর সহ্য হয় না। আমার ভাই বাঁচুক বা মরুক আমরা অবিলম্ভে আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার বিচার দেখতে চাই।
হাসান সরকার আক্ষেপ করে বলেন, টঙ্গীর অধিকাংশ মানুষের জানায় আমি শরিক হয়েছি। কিন্তু নোংরা রাজনীতির কারণে আমার স্নেহভাজন আহসান উল্লাহ মাস্টারের জানাযায় শরিক হতে পারিনি। বিষয়টি আমাকে মারাত্মক পীড়া দেয়। আমি ওর জন্য প্রায়ই দোয়া করি। আল্লাহ যেন তাকে (আহসান উল্লাহ মাস্টারকে) জান্নাতবাসী করেন। তিনি বলেন, নূরুল ইসলাম সরকারকে প্যরোলে মুক্তি দিতে কোন আইনী বাধা ছিল না। কিন্তু কেন আমাদের সাথে এধরণের অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে তা টঙ্গীবাসীই ভাল করে জানেন।
টঙ্গীর ঐতিহ্যবাহী সরকার পরিবারের অপর সদস্য নুরুল ইসলাম সরকারের চাচাতো ভাই জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কার্যকরি সভাপতি গাজীপুর জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আলহাজ সালাহ উদ্দিন সরকার কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, নূরুল ইসলাম সরকারকে প্যারোলে মুক্তির জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকার তাকে প্যারোলে মুক্তি দেয়নি। তিনি বলেন, যত বড় শাস্তিই হোক না কেন স্ত্রীর জানাযায় প্যারোলে মুক্তি না দেয়া অমানবিক ও নজিরবিহীন ঘটনা। তিনি বলেন, আপিল করেছি আমরা; আর বার বার সময় চায় তারা (বাদী পক্ষ)। এতেই প্রমাণিত হয় নূরুল ইসলাম সরকার এই ঘৃণ্য হত্যাকান্ডে জড়িত নয়।
জানাযায় নূরুল ইসলাম সরকারের একমাত্র ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি বক্তৃতা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, বাবার অনুপস্থিতিতে মা আমাকে আগলে রাখতেন। এখন মা মারা গেছেন; বাবাও জেলে; আমি কার কাছে যাব। আপনাদের কাছে মা-বাবার মত স্নেহ চাই।  আমার মা-বাবার জন্য দোয়া করবেন। আমি টঙ্গীবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। আপনারা সব সময় আমাদের পাশে ছিলেন। বিগত পৌর নির্বাচনে কারারুদ্ধ আমার বাবাকে আপনারা ভোট দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন তিনি নির্দোষ। রনির কান্নাজড়িত বক্তৃতার এক হৃদয় বিদারক ও আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসময় জানাযায় উপস্থিত অনেককেই কাঁদতে দেখা গেছে।
গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইজাদুর রহমান মিলন, কাপাসিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদ সিদ্দিকী, বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুল লতিফ, শ্রীপুর উপজেলা বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির, সাবেক বাসন ইউপি চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী, গাজীপুর জেলা হেফাজতে ইসলামের আমির মুফতি মাসুদুল করিম, টঙ্গী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম শুক্কুর, শ্রমিক নেতা আব্দুল কুদ্দুস, মতিউর রহমান বি.কম মতিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নেতাসহ সর্বস্তরের মানুষ জানাযায় শরিক হন।
এদিকে জানাযায় শরিক হতে না পেরে মোঠো ফোনে শোক সন্তত্ব পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বিগ্রেডিয়ার অব. আ.স.ম হান্নান শাহ, ব্যরিস্ট্রার মওদুদ আহমেদ, ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস,শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, এডভোকেট নিতাই চন্দ্র রায়, খায়রুল কবির খোকন, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বীরমুক্তিযোদ্ধা ব্যরিস্ট্রার শাহজাহান ওমর, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, মহিলা দলের সভানেত্রী শিরিন সুলতানাসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্থরের কেন্দ্রীয় নেতারা শোক প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, নূরুল ইসলাম সরকার আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন কারাগারের ফাঁসির সেলে আটক রয়েছেন। বর্তমানে তাকে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের ফাঁসির সেলে রাখা হয়েছে। ইতিপূর্বে তার মা ও ছোট ভাইয়ের জানাযায়ও তাকে শরিক হতে দেয়া হয়নি বলে পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন। ২০০৪ সালের ৭ মে নিজ বাস ভবনের সামনে শ্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তৎকালীন আওয়ামীলীগ দলীয় স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার। এই মামলায় নিন্ম আদালত ২২ জনের ফাঁসি ও ৪ জনের যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ দেন। আসামীদের মধ্যে নুরুল ইসলাম সরকারসহ ৪ জন ছাড়া বাকি সবাই আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত। বার বার বাদী পক্ষের অনাস্থার কারণে মামলাটি দীর্ঘ দিন ধরে আপিল বিভাগে ঝুলে রয়েছে।