Pages

Categories

Search

আজ- বৃহস্পতিবার ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আধুনিকতার এই যুগে সাহারার পানির অভাব

সোলায়মান মোহাম্মদ: “আমি গরীব, অসহায় বলে টিবল (টিউবওয়েল) ঘারার সামর্থ্য নাই,তাই মাইনষের বাড়ি থেইকা পানি আনি,আমাকে কেউ পানি দিতে চায় না, পানি আনতে গেলে বকা দেয়, বকা শুনে পানি আনি দেইখা বাঁশ দিয়া বেড়া দিয়া দিছে,যাতে আর পানি আনতে না পারি। হেরপরও পানি আনতে পাশের বাড়িতে হাত পাতি, পানি ছাড়া তো আর বাঁচুন যাইতো না। আমার স্বামী অসুস্থ কাম কাইজ করবার পারে না, আমি এলহা যা কামাই তা দিয়া সংসার চলে না, ছেলেরা থাইকাও নাই। তাইলে আনহেরাই কইন টিবল আমি কিবা ঘারাম? এলাহার বেবাক মাইনষেরে কইছি, মেম্বার সাবরেও কইছি। কয়দিন আগে এনো বড় নেতা আইছিন উডান বৈডক ( উঠান বৈঠক) হরতো, হেগোরেও কইছি কিন্তু কোনো ফল পাইছি না। আল্লাহ্ আল্লাহ্ কইরা যদি আমার একটা টিবল অইতো তাইলে আর মাইনষের বকা খাওয়ুন লাগতো না”।
আমরা যখন আধুনিকতার সকল সুযোগ সুবিধা একে একে লুফে নিচ্ছি। বৈদ্যুতিক মোটর দ্বারা পানি তুলে বাজার থেকে কিনে আনা বিভিন্ন মেশিন দিয়ে পানি গরম করে ব্যবহার করছি। ঠিক তখন ওই কথাগুলো কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের সিংদিঘী গ্রামের হোসেন আলীর স্ত্রী সাহারা বেগম।

সরেজমিন দেখা যায়, বহুদিনের পুরানো একটি ভাঙাচোরা টিনের ঘরে রোদ,বৃষ্টি ও তীব্র শীত উপেক্ষা করেই বাস করেন হোসেন আলী। নিজে অসুস্থ থাকায় কোনো কাজ করতে পারে না। সন্তানরাও দেখে না, বাধ্য হয়ে স্ত্রী সাহারা বেগমকে কোনো মতে স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনে ঝাড়–দারের কাজ করে সংসার চালাতে হয়। মাত্র ৮ শ টাকায় কিবা সংসার চালাইবো আমার বউয়ে? আল্লাহ আমারে মউত দেয় না ক্যা? ভাত কাপড় তো আর চাই নাই, পানি টিবল থেকে আনবো আমার বউয়ে হেইডাও মাইনষে দিবার চায় না। বাঁশ দিয়া বেড়া মারছে। চেয়ারম্যান সাব টিবল দিবার না পারে বিষ তো দিবার পারবো, হেইডাই দিবার কন গা,খাইয়া মইরা থাহি। বুক ভরা দু:খ ও অভিমান নিয়ে কথাগুলো বললেন হোসেন আলী। হোসেন আলীর প্রতিবেশি মো. মামুন প্রিয়া বলেন, আমি নিজেও অনেক মানুষকে বলেছি হোসেন আলীকে সহযোগিতা করার জন্য। এমনকি সহযোগিতা চেয়ে ফেসবুকে লিখেছিও আশা করি ভিত্তশালীরা এগিয়ে আসবে।
মাওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম খোকন জানান, বিষয়টি সত্যিই খুব দু:খজনক। যতদ্রæত সম্ভব আমি টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করে দিবো।