Pages

Categories

Search

আজ- শনিবার ১৭ নভেম্বর ২০১৮

ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ডুয়েট বন্ধ ঘোষণা

DUET1449499132নিজস্ব সংবাদদাতাঃ
গাজীপুরে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) আধিপত্য বিস্তার ও হলের সিট দখলকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকেলে ছাত্রলীগের দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ হয়েছে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্ততঃ ১২ জন আহত হয়েছে। এসময় তারা আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর ও তছনছ করেছে। পরিস্থিতি অবনতির আশংকায় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ও সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে ছাত্রদের এবং মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিতব্য সকল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র রুহুল আমিনসহ একাধিক ছাত্র জানায়, গাজীপুর শহর এলাকাস্থিত ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) কুদরত-ই-খুদা হল থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রোনিক্স (ইইই) বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছাত্রলীগ কর্মী রুহুল আমিনকে সোমবার দুপুরে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বাশারের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিনের সমর্থকরা মারধর করে হল থেকে বের করে দেয়। এঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রাতুল সমর্থকরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাতে ওই হলে যায়। এসময় প্রতিপক্ষ সভাপতির সমর্থকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের কর্মী ও সমর্থকরা  লোহার রড, লাঠি ও বটি দা’ নিয়ে প্রতিপক্ষের উপর হামলা চালায় এবং আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাংচুর ও তছনছ করেছে। এতে দু’পক্ষের মাঝে সংঘর্ষ শুরু হয়।সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষকালে প্রতিপক্ষের ধাওয়া খেয়ে সাধারণ সম্পাদকের সমর্থকরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বাইরে গিয়ে অবস্থান নেয়। সংঘর্ষে অন্ততঃ ১২ জন আহত হয়। এদের মধ্যে গুরুতর আহত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র চঞ্চল কুমার ও ইইই বিভাগের একই বর্ষের ছাত্র মাসুদ রানাকে প্রথমে গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাদেরকে আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এছাড়াও আহত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং চতুর্থ বর্ষের দেবজিৎ চন্দ্র আকাশ, একই বর্ষের ছাত্র রাকিব হোসেন লিংকন, জুয়েল বিশ্বাস, সফিকুর রহমান ও সোলায়মান এবং ইইই’র ছাত্র গিয়াস উদ্দিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এঘটনার পর সন্ধ্যায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত চঞ্চল কুমার মারা গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে ক্যাম্পাস ও আশেপাশের এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়।

এদিকে ডুয়েট’র পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ) প্রফেসর ড. মোঃ কামরুজ্জামান জানান, দু’পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠিতব্য সকল পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়াও সোমবার সন্ধ্যা ৬ টার মধ্যে ছাত্রদের এবং মঙ্গলবার সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চলবে।

অপরদিকে সংঘর্ষের খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ জল কামান ও রায়ট কারসহ ক্যাম্পাসে অবস্থান নেয়।
এব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন জানান, শিবির কর্মী রুহুল আমিনকে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া পর সাধারণ সম্পাদকের ছত্রচ্ছায়ায় পুনঃরায় সে হলে উঠে। সোমবার সাধারণ ছাত্ররা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষরা সাধারন ছাত্রদের উপর হামলা চালায় ও ভাংচুর করে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউর রহমান রাতুল ওই অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ছাত্রলীগ কর্মীকে শিবির কর্মী হিসেবে অপপ্রচার চালাচ্ছে প্রতিপক্ষরা।

গাজীপুরের শহীদ তাজ উদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত আহত ছাত্র চঞ্চল কুমারের অবস্থা আশংকাজনক।