Pages

Categories

Search

আজ- শুক্রবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আত্রাই নদীতে ভেঁসে আসা অজ্ঞাত মৃতদেহ উদ্ধার না করে ভাঁসিয়ে দেয়া হলো চলন বিলে


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর আত্রাই নদীতে ভেঁসে আসা অজ্ঞাত অর্ধ গলিত এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার না করার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে মৃতদেহের ময়না তদন্ত, দাফন, খরচ ও ঝামেলার হাত থেকে রক্ষা পেতেই ওই অজ্ঞাত মৃতদেহ নদীর ¯্রােতে ভেঁসে দেয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আত্রাই থানার পাশে দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদীতে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়নের মিরাপুর নামকস্থানে নদীতে দুপূর ১২টার দিকে প্রথমে ওই অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃতদেহ ভেঁসে থাকতে দেখতে পান এলাকাবাসি। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান থানাকে জানানোর পরও পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার না করায় শুটকিগাছা রাবার ড্যাম এলাকায় আত্রাই নদীতে আটকে যায়। ঘটনাস্থালে পুলিশ আসলে মৃতদেহ উদ্ধার না করে চলে যায় পুলিশ। ড্যামে প্রায় এক ঘন্টা আটকে থাকার পর নদীর পানিতে মৃতদেহটি ভাঁসতে ভাঁসতে থানার পাশে সাহেবগঞ্জ এলাকায় ঘাসের সাথে আটকে যায়। এরপর স্থানীয় এলাকাবাসি থানায় আবারও সংবাদ দেন। এ দিকে মৃতদেহটির সংবাদটি জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার কর্মরত মিডিয়া কর্মী পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার বিকেলে পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনকে জানানো হয়। পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন তাৎক্ষণিক বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্যে বলেন।
কিন্তু মৃতদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে বিকেলে আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বদরুদ্দোজ্জার নির্দেশে আত্রাই ও রাণীনগর উপজেলার মৃতদেহ বহনকারি মো. আব্দুল লতিফ মৃতদেহটি একটি বাঁশ দিয়ে আবারও নদীর মাঝ দিয়ে ভেঁসে দেন।
আত্রাই (আহসানগঞ্জ) বাজার এলাকার লোকমান হাকিম, সুব্রত সরকার জানান, গলিত ওই মৃতদেহটি থানার সংলগ্ন এলাকায় নদীর ধারে থাকা ঘাসে আটকে যায়। এ সময় মৃতদেহটি দেখতে শতশত লোক নদীরপাড়ে ভীর করেন। এরপর বিকেলে পুলিশের নির্দেশে আব্দুল লতিফ নদীর মাঝে ঠেলে দিয়ে ভেঁসে দেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী করিম সরদার, ফরমান, সাদেকুল ইসলামসহ অন্যান্যরা জানান, মৃতদেহটি থানা পুলিশ উদ্ধার না করে দায়িত্বের পরিচয় দেননি। পুলিশের উচিত ছিল মৃতদেহটি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে সরকারি ভাবে দাফন সম্পন্ন করা।
আব্দুল লতিফ জানান, ময়নাতদন্ত, দাফন, খরচ ও ঝামেলার হাত থেকে বাঁচতে থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করতে দেননি। ফলে বাঁশ দিয়ে নদীতে ভেঁসে দেয়া হয়। নদী দিয়ে ভাঁসতে ভাঁসতে চলনবিল এলাকায় চলে গেছে।
উপজেলার শাহাগোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম বাবু জানান, ঘটনাটি স্থানীয়রা তাকে জানানোর পর দ্রুত থানায় জানানো হয়। এরপর আত্রাই উপজেলার নদীর পানিতে ভেঁসে থাকা ওই মৃতদেহটি প্রায় সাড়ে তিন ঘন্টা থাকলেও কিন্তু থানা পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার না করেনি। ফলে ওই মৃতদেহটি কোথা থেকে ভেঁসে এসেছে এবং কি ভাবে তার মৃত্যু হয়েছে তার কারণ জানা সম্ভব হলো না।
আত্রাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. বদরুদ্দোজ্জা এবং পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনের সেল ফোনে শুক্রবার একাধিবার যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসির্ভ না করায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।