Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আখেরি মোনাজাত রোববার সাড়ে ১১টায়, হলো না যৌতুকবিহীন বিয়ে

জানুয়ারি, ১০, ২০১৬
জাতীয়, ধর্ম
No Comment

2015_12_15_12_40_32_n1dTVkE6jJQOPb0aHEc4J0aAPtoCVP_512xautoমাহমুদুল হাসান:
বিশ্ব ইজতেমার অন্যতম আকর্ষণ যৌতুকবিহীন বিয়ে এবার অনুষ্ঠিত হয়নি। রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবছরই দ্বিতীয় দিনে বাদ আসর ইজতেমা ময়দানে কনের অনুপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই প্রথমবারের মতো  ধারাবাকিতার ব্যত্যয় ঘটলো।

রোববার বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমার দ্বিতীয় দিন শনিবার আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধান ও রাসুল (স.) প্রদর্শিত তরিকা অনুযায়ী জীবন গড়ার আহ্বান জানিয়ে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লি জিকির আসকার, ইবাদত বন্দেগি আর ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশে পবিত্র কোরআনের আলোকে গুরুত্বপূর্ণ বয়ানের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছে।

মহান আল্লাহ তা’আলার নৈকট্য লাভের ব্যাকুলতায় দ্বীনের দাওয়াতে মেহনত করার জন্য ইসলামের মর্মবাণী সর্বত্র পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা দলে দলে ছুটে আসছেন টঙ্গীর তুরাগ তীর ইজতেমা ময়দানে।

শনিবারও টঙ্গী অভিমুখী বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চসহ বিভিন্ন যানবাহনে ছিল মানুষের ভিড়। দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের পদচারণায় টঙ্গীর তুরাগ পাড়ের ইজতেমাস্থল এখন মুখরিত। শিল্প নগরী টঙ্গী এখন যেন ধর্মীয় নগরীতে পরিণত হয়েছে। রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ ঢল অব্যাহত থাকবে। ইতিমধ্যে ইজতেমা ময়দান পূর্ণ হয়ে গেছে। মূল প্যান্ডেলে স্থান না পেয়ে অনেক মুসল্লি নিজ উদ্যোগেই প্যান্ডেলের বাইরে পলিথিন সিট ও কাপড়ের সামিয়ানা টানিয়ে তাতেই অবস্থান নিয়েছেন। সৃষ্টিকর্তার বন্দনা, আরজ-গুজার, শোকরানা আর ইবাদত বন্দিগিতে মশগুল মানুষের কলরব।

এদিকে প্রথমবারের মতো দেশের মোট ৬৪টি জেলাকে দু’বছরে চার পর্বে বিভক্ত করে এ বছর থেকে ইজতেমায় আয়োজন করায় এবারের প্রথম পর্বের ইজতেমায় আগত মুসল্লিারা স্বস্তিতে ও নির্বিঘ্নে সময় কাটিয়েছেন। এলাকাবাসীও নানা ভোগান্তি থেকে অনেকটা মুক্ত ছিলেন।

জানা গেছে, রোববার বিশ্ব ইজতেমার প্রথম দফার আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষ মোনাজাত মঞ্চ থেকেই রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে শুরু হবে আখেরি মোনাজাত। এর আগে অনুষ্ঠিত হবে হেদায়েতি বয়ান। রোববার হেদায়েতি বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে এবারের বিশ্ব ইজতেমার তিনদিনের প্রথম পর্ব।

এরপর চারদিন বিরতি দিয়ে আগামি শুক্রবার শুরু হবে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব।

ইজতেমার মুরুব্বীরা জানান, টঙ্গীর তুরাগ পাড়ে ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের স্থান সঙ্কুলান না হওয়ায় এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবারও দুই পর্বে ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে প্রথমবারের মতো দেশের মোট ৩২টি জেলা নিয়ে এবছর ইজতেমার দুই পর্ব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরবর্তী বছরের (২০১৭ সালে) ইজতেমা বাকি ৩২ জেলা নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। গত শুক্রবার ফজরের নামাজের পর থেকে আমবয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। এবার প্রথম পর্বে অংশ নিয়েছে ঢাকার একাংশসহ ১৭টি জেলার তাবলিগ অনুসারীরা।

রোববার (১০ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথমপর্বের ইজতেমা শেষ হচ্ছে। এরপর চার দিন বিরতির পর  ১৫ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে। দ্বিতীয় পর্বে অংশ নেবে ঢাকার বাকি অংশসহ ১৬টি জেলার তাবলিগ অনুসারী। ১৭ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্বের আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটবে দু’পর্বের এবারের বিশ্ব ইজতেমা।

এবারও তাবলিগের শীর্ষ মুরুব্বীরা রেডিও-টিভিতে আখেরি মোনাজাত সরাসরি সম্প্রচারে অনুমতি দেননি। ক্যামেরাও মুরুব্বীদের ছবি তোলাও বারণ করে দিয়েছে ইজতেমা কর্তৃপক্ষ। তারপরও কিছু কিছু বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইজতেমা কর্তৃপক্ষের অজ্ঞাতে আখেরি মোনাজাত সম্প্রচার করার উদ্যোগ  নিয়েছেন।

এবার যৌতুকবিহীন বিয়ে হয়নি:
বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ আসর ইজতেমা ময়দানে কনের অনুপস্থিতিতে যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করা হতো। এ বছর ওই বিয়ের আয়োজন হয়নি। বিশ্ব ইজতেমার আয়োজক কমিটির মুরুব্বী প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, বিগত বছরগুলোতে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে কনের অনুপস্থিতিতে বিয়ে অনুষ্ঠিত হতো। এবার তা হয়নি। ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ে অনুষ্ঠিত হলে তা কেবল এই ময়দানে আসা তাবলিগের সদস্যরা ও মুসল্লিরা জানতে পারেন। এলাকার লোকজন এমনকি অনেক স্বজনরাও তা জানতে পারেন না। ফলে ওই বিয়ের আকর্ষণ কমে যায়। এজন্য এবার থেকে ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ের জন্য তালিকাভুক্ত হলেও তাদের নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে ওই বিয়ের আয়োজন করতে বলা হয়েছে। তাই এখন থেকে ইজতেমা মাঠে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ব ইজতেমার অন্যতম আকর্ষণ ছিল যৌতুক বিহীন বিয়ে। সম্পূর্ণ শরিয়ত মেনে তাবলিগের রেওয়াজ অনুযায়ী ইজতেমার দ্বিতীয় দিন (শনিবার) বাদ আছর ইজতেমার বয়ান মঞ্চের পাশেই বসে যৌতুকবিহীন বিয়ের আসর বসতো। কনের সম্মতিতে ও তার অনুপস্থিতিতে বর ও কনে পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতো  ওই বিয়ে। বিয়েতে মোহরানা ধার্য করা হতো ‘মোহর ফাতেমী’র নিয়মানুযায়ী। এ নিয়ম অনুযায়ী মোহরানার পরিমাণ ধরা হতো দেড়শ’ তোলা রূপা বা এর সমমূল্য অর্থ।

দ্বিতীয় দিন (শনিবার) যারা বয়ান  করলেন:
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের দ্বিতীয় দিন শনিবার মুসল্লিদের উদ্দেশে বাদ ফজর বয়ান করেন ভারতের মাওলানা ইসমাইল হোসেন গোদরা, বাদ জোহর ভারতের হযরত মাওলানা মোহাম্মদ জমশেদ, বাদ আসর ভারতের হযরত মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ এবং বাদ মাগরিব ভারতের হযরত মাওলানা খোরশেদ। দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমা ময়দানে অবস্থান করে ফজিলতপূর্ণ এ বয়ান শুনেন।

যা বয়ান করলেন:
তাবলিগ জামাতের মুরুব্বীরা ইজতেমার বিশাল ময়দানে সমবেত দেশ-বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লির উদ্দেশে তাবলিগের ছয় উসুল, যথা- কালিমা, নামাজ, ইলম ও জিকির, ইকরামুল মুসলিমিন, তাসহিয়ে নিয়ত এবং তাবলিগ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান করেন। বয়ানে তাবলিগ মুরব্বীরা বলেন, যতদিন দ্বীন থাকবে, ততদিন দুনিয়া থাকবে। আর দ্বীন টিকে থাকবে দাওয়াতের মাধ্যমে। যুগে যুগে নবী-রাসুলগণ দ্বীনের দাওয়াতের কাজ করে গেছেন। ফেরাউনের কাছেও দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিতে আল্লাহ্ হযরত মুসাকে (আ.) পাঠিয়েছিলেন। আল্লাহ যাল্লে জালালুহু নবী-রাসুলদেরকে তাদের নিজের পরিবার ও বিভিন্ন গোত্রের মানুষের কাছে দ্বীনের দাওয়াত দেয়ার জন্য পাঠিয়েছেন। আখেরি নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফাকে (সা.) সারা দুনিয়ায় দ্বীনের দাওয়াত দেওয়ার জন্য পাঠিয়েছিলেন। আজ তিনি নেই। এ কাজের জিম্মাদারি এখন তার উম্মতের ওপর।

সকলকে দ্বীনের জন্য মেহনত করতে হবে। আল্লাহর কাছে আমল ছাড়া এ দুনিয়ার জিন্দেগির কোনো মূল্য নেই। বয়ানে আরও বলা হয়, দ্বীনের দাওয়াতের মাধ্যমে ইমান মজবুত হয়। ইমান মজবুত হলে আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আর এ সম্পর্ক গড়ে উঠলে দুনিয়া ও আখেরাতে কামিয়াবি হাসিল হয়।

তাশকিলের কামরায় চিল্লাভুক্ত মুসল্লি:
ইজতেমার প্যান্ডেলের উত্তর-পশ্চিমে তাশকিলের কামরা স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন খিত্তা থেকে বিভিন্ন মেয়াদে চিল্লায় অংশ গ্রহণেচ্ছু মুসল্লিদের এ কামরায় আনা হচ্ছে এবং তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। পরে কাকরাইলের মসজিদের তাবলিগি মুরুব্বীদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকা ভাগ করে তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় তাবলিগি কাজে পাঠানো হবে।

ভিআইপিরা কে কোথায় মোনাজাতে অংশ নেবেন:
বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ বয়ান মঞ্চে বসে মোনাজাতে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  এছাড়াও প্রতিবারের মতো এবারো দোয়া মঞ্চের পাশে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ এবং হোন্ডা (এটলাস) কারখানার ছাদে বিশেষভাবে তৈরি মঞ্চে বসে আখেরি মোনাজাতে অংশ নেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশির ভাগ সময় টঙ্গীর বাটা সু’ ফাক্টরির ছাঁদে আখেরি মোনাজাতে অংশ নিলেও মুসুল্লীদের ভিড় বেশি হলে ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকায় অবস্থান নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় গত আখেরী মোনাজাতের মতো এবারও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মোনাজাতে অংশ নিতে পারেন বলে জানায় একটি সূত্র। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হকসহ মন্ত্রী পরিষদের একাধিক সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের কর্মকর্তাগন জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোলরুমসহ ময়দানের বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত হয়ে মোনাজাতে অংশ নেবেন।

আখেরি মোনাজাতের প্রস্তুতি:
রোববার ইজতেমার মূল আকর্ষণ আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। ইজতেমা মাঠের বিদেশি নিবাসের পূর্বপাশে বিশেষ মোনাজাত মঞ্চ থেকে রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে আখেরি মোনাজাত শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম। এর আগে হবে হেদায়তি বয়ান। রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মুসল্লিদের ঢল অব্যাহত থাকবে। ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শরিক হতে বিপুল সংখ্যক মহিলা টঙ্গীর আশপাশে এসে অবস্থান নিয়েছেন। অনেকে তাদের আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে উঠেছেন।রবিবার হেদায়তি বয়ান ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার তিন দিনের প্রথম দফা। আগামি শুক্রবার শুরু হবে তিন দিনের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দফা।

আরো দুই মুসল্লির মৃত্যু:
ইজতেমা ময়দানে আরো দুই মুসল্লি ইন্তেকাল করেছেন। নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার সুন্দরপুর গ্রামের মোঃ কালা মিয়ার ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৬০) এবং সিলেটের জালালাবাদ থানার টোকের বাজার এলাকার মৃত মফিজ উদ্দীনের ছেলে আলাউদ্দিন (৬৫)। এ নিয়ে গত দুই দিনে ইজতেমা ময়দানে ৫ মুসল্লি মারা গেছেন।

পকেটমার–ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার:
বিশ্ব ইজতেমা ও আপপাশ এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে থেকে সকাল পর্যন্ত পকেটমার ও ছিনতাইসহ নানা অভিযোগে কয়েকজনকে জনকে আটক করেছে পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা।

বিদেশির পাসপোর্ট চুরির চেষ্টা, কারাদণ্ড:
শনিবার সকালে বিদেশি নিবাসে ঢুকে সৌদি নাগরিকের পকেট থেকে পাসপোর্ট ও টাকা চুরির চেষ্টাকালে এক ব্যক্তিকেহাতেনাতে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক আটককৃত আব্দুল আজিজকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তির নাম আব্দুল আজিজ (৩২)। তার বাড়ি কক্সবাজারের উখিয়া এলাকায়।

মোনাজাতের দিন চলবে শ্যাটল বাস:
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, শনিবার রাত ১২টা থেকে রোববার আখেরি মোনাজাতের সময় পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস মোড় থেকে কুড়িল বিশ্বরোড, আব্দুল্লাহপুর-কালিয়াকৈর সড়কে সাভারের বাইপাইল থেকে আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গীর স্টেশন রোড থেকে মীরের বাজার পর্যন্ত অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়ি ছাড়া সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। তবে আখেরি মোনাজাতের দিন রোববার সকাল থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা থেকে ইজতেমাস্থল পর্যন্ত  মুসল্লিদের সুবিধার্থে প্রায় অর্ধশত বিআরটিসি বাস ও ব্যক্তি মালিকানাধীন আরও প্রায় অর্ধশত (ইজতেমার স্টিকার লাগানো) শ্যাটল বাস চলাচল করবে।

বিশ্ব ইজতেমায় বিদেশি মুসল্লি:
গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, শনিবার দুপুর পর্যন্ত বিশ্বের অন্তত ৯৫টি দেশের ৭ হাজার ১৫২ জন বিদেশি মুসল্লি ইতোমধ্যে ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। আরও বিদেশি মেহমান টঙ্গীর পথে রয়েছেন। ফলে এবারের ইজতেমায় বিদেশী মুসল্লির উপস্থিতির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আয়োজকরা আশা করছেন। বিভিন্ন ভাষা-ভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতেমা ময়দানে বিদেশি মেহমানদের জন্য মোট ৩টি পৃথক বিদেশি নিবাস নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজির প্রেস ব্রিফিং:
বিশ্ব ইজতেমার নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মাহফুজুল হক নুরুজ্জামান শনিবার দুপুরে  ইজতেমা ময়দানের মিডিয়া সেন্টারের সামনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে জানান, ইজতেমা ময়দানে যাতে কোনোধরনের নাশকতা কেউ করতে না পারে সেজন্য এবারের ইজতেমা ময়দানে আরও বেশি সতর্ক অবস্থা নেয়া হয়েছে। নাশকতার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে এবার বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইজতেমা ময়দানে সে সব বিদেশি মুসল্লি অংশ নিয়েছেন, তাদের ব্যাপারে পূর্ব থেকে খোঁজ খবর নিয়ে ইজতেমায় আসার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য:
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম আলম জানান, বিশ্ব ইজতেমা সফলভাবে এগিয়ে চলছে। আশা করছি, আল্লাহর রহমতে আখেরি মোনাজাত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে। আমরা সরকারি সকল নির্দেশনা পালন করে যাচ্ছি। মুসল্লিদের চাহিদা মোতাবেক সব রকম ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেছি। এখানে আসা সাধারণ মুসল্লিরা খুবই সহমর্মিতা ও ধৈর্যের পরিচয় দেন। তাই ইজতেমায় সব কিছু সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়।

আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা:
রোববার টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাত। এ উপলক্ষে গাজীপুর পুলিশ প্রশাসন বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে। শনিবার দুপুরে ইজতেমাস্থলে পুলিশ কন্ট্রোল রুমের সামনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. হারুন অর রশিদ জানান, আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মোনাজাতের দিন অন্যান্য দিনের চেয়ে দ্বিগুণ ফোর্স (দুই শিফটের ফোর্স এক শিফটে) মোতায়েন করা হবে।

তিনি বলেন, বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে ইজতেমা ময়দানসহ আশপাশ এলাকায় ৫ স্তরের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রয়েছে। ইজতেমা মাঠে প্রবেশের রাস্তাগুলোতে ৫ স্তরে নিরাপত্তা তল্লাশী পেরিয়ে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করতে হচ্ছে। বিদেশী নিবাসসহ প্যান্ডেলের ভিতর ও বাইরে মুসল্লি বেশে রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রায় সহস্রাধিক সদস্য। তারা ৫টি স্তরে নিরাপত্তা দিচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ইজতেমা ময়দানের সব প্রবেশপথে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও বিভিন্ন পয়েন্টে স্থাপিত পর্যবেক্ষণ টাওয়ার ফুট পেট্রল, রিভার পেট্রলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।। ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে।

এমএইচএস