Pages

Categories

Search

আজ- সোমবার ১৯ নভেম্বর ২০১৮

অনুমোদন ছাড়াই গাজীপুরে কোবরা সাপের খামার

রাজীব সরকার, গাজীপুর:
কোন রকম অনুমোদন ছাড়াই গাজীপুর সদর উপজেলার মনিপুর বিকেবাড়ি বাজার এলাকায় এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বিষধর কোবরা সাপের খামার করেছে। ওই যুবক কোবরা সাপের বিষ বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। কোবরা সাপের বিষ বিক্রি করছে ওই এলাকার আব্দুল আলীমের ছেলে যোবায়ের হোসেন (৩৬)।
এলাকাবাসি ও খামার মালিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ বছর আগে ৫টি কোবরা সাপ দিয়ে খামার শুরু করেন যোবায়ের। ক্রয় করে ও বিভিন্ন বনজঙ্গল থেকে বিষধর সাপ ধরে খামারে সাপের সংখ্যা বাড়াতে থাকে। পরে সাপের বাচ্চা দিলে খামামের আরো সাপ বাড়তে থাকে। বর্তমানে ওই খামের সাদা কোবরা, ডোরাকাটা কোবরা, কালো কোবরা, মাইছা কোবরাসহ সাড়ে তিন থেকে চার শতাধিক সাপ রয়েছে। সাপ ও সাপের বিষ বিদেশে পাচার করাই ওই যুবকের উদ্দেশ ও লক্ষ। বর্তমানে ওই খামারে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা মূল্যের বিষধর কোবরা সাপ রয়েছে। ওই খামারে প্রতি মাসে খরচ হয় ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। ওইসব কোবরা সাপকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয় কবুতরের ডিম, মাছ, ইঁদুর, খরগোশের বাচ্চা ও পানি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের হোতাপাড়া থেকে ৩ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে মনিপুর বিকেবাড়ি বাজারের পাশে একটি উচু প্রাচীরের ভেতর এই কোবরা সাপের খামার। প্রায় ১০ ফুট উচু প্রাচীরের চারপাশে গাছপালা। এর দক্ষিণ পাশে খামারে ভেতর প্রবেশ করার লোহার একটি গেট। প্রায় সব সময় তালা লাগিয়ে ওই গেট বন্ধ করে রাখা হয়।
খামার মালিক যোবায়ের হোসেন জানান, ১০ বছর আগে একটি পত্রিকা পড়ে জানতে পারি সাপের বিষ অনেক দামী। তখন থেকে সাপের চাষ শুরু করি। সাপের বিষ ও সাপ বিদেশে বিক্রি করে দৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। গত তিন বছর আগে সাপ বিক্রির জন্য সরকারী অনুমোদন চেয়েছি। এখনো অনুমোদন পাইনি। তিনি সাপ ও সাপের বিষ বিক্রি করার কথা অশ্বীকার করেছেন। খামার মালিক যোবায়ের এই প্রতিবেদককে ওই সাপের খামারের ভেতর প্রবেশ করতে দেয়নি।

এব্যাপারে গাজীপুর সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসার ডা: মো. জহিরুল ইসলাম বিষধর কোবরা সাপের খামারের কথা শ্বীকার করে বলেন, গত দুই বছর আগে আমরা ওই খামারে গিয়ে ছিলাম। তাকে খামারে সাপ রাখতে নিষেধ করি। বর্তমানে ওই খামারে ২০০ ওপরে কোবরা সাপ রয়েছে। সদর উপজেলা প্রাণীসম্পদ থেকে তাকে সাপের খামারের কোন অনুমোদন দেইনি। তবে তিনি আবেদন করেছেন। এজন্য এখনো ওই খামারকে বৈধ অথবা অবৈধ কোনটাই বলা যাবে না।